ধর্মীয় উদারতার নামে বাচ্চাদের ভুল শিক্ষা দিচ্ছেন না তো!

  ধর্মীয় উদারতার নামে বাচ্চাদের প্রথম ছবিটির শিক্ষা দিন, দ্বিতীয় ছবিটির নয়!!

ধর্মীয় উদারতার নামে বাচ্চাদের ছবিটির শিক্ষা দিন

ধর্মীয় উদারতার নামে বাচ্চাদের ভুল শিক্ষাচ্ছেন না তো!

জেনে রাখবেন যখন মুসলিমদের সঙ্গে মক্কার মুশরিকদের হুদায়বিয়ার সন্ধি হয় তখন রাসূল (সাঃ) তাদের বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছিলেন, এমনকি তারা সন্ধিপত্রে রাসূলুল্লাহ এই কথাটির পরিবর্তে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ লিখতে বলে (যেটা কিন্তু রাসূল এর জন্য অপমান সূচক ছিল)। রাসূল (সাঃ) সেটাও মেনে নিয়েছিলেন শান্তি চুক্তি সম্পূর্ণ করার জন্য। কিন্তু নিচের ঘটনাটির দিকে একবার খেয়াল করুন--


হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, ওলীদ ইবনে মুগীরা, আস ইবনে ওয়ায়েল, আসওয়াদ ইবনে আবুদল মোত্তালিব ও উমাইয়া ইবনে খলফ প্রমুখ মক্কার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজন একবার রসূলুল্লাহ্‌ - এর কাছে এসে বললঃ আসুন, আমরা পরস্পরের মধ্যে এই শান্তি চুক্তি করি যে, এক বছর আপনি আমাদের উপাস্যদের এবাদত করবেন এবং এক বছর আমরা আপনার উপাস্যের এবাদত করব(তাফসীরে কুরতুবী)। এরপরই সূরা কাফিরুন নাযিল হয়ে যায়। যার শেষ আয়াতে বলা হয় "লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন" অর্থাৎ তোমাদের কাছে তোমাদের ধর্ম (কর্মফল) এবং আমাদের কাছে আমাদের ধর্ম (কর্মফল)(এই আয়াতের দীর্ঘ ব্যাখ্যা রয়েছে, আমি এখানে বাহ্যিক মানেটা উল্লেখ করলাম)


অর্থাৎ ধর্মীয় উদারতার নামে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠান কে সেলিব্রেট করা তাওহীদে বিশ্বাসী মুসলিমদের জন্য জায়েয নয়।


রাসূল (সাঃ) ইহুদিদের দাওয়াতে সাড়া দিয়ে তাদের বাড়ি গেছেন। নিজের বাড়িতে বকরির গোস্ত রান্না হলে, প্রতিবেশী ইহুদিদের বাড়িতে সেই গোশত পাঠিয়েছেন‌। মসজিদে নববীতে একজন অমুসলিম এসে পেশাব করে দিয়েছিলেন কিন্তু রহমতের নবী সেটাও মাফ করেছেন বরং নিজে পানি দ্বারা সাফ করেছেন (এই রকম বহু উদাহরণ হাদিসের মধ্যে এসেছে), কিন্তু তাদের ধর্মীয় নীতি কে বর্জন করেছেন।


মানে ব্যাপারটা খুবই সোজা। প্রয়োজনে আপনার অমুসলিম প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ান, তাদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করুন, তাদেরকে শ্রম দিয়ে সাহায্য করুন, তাদের প্রতি সুন্দর ব্যবহার আচরণ করুন যাতে করে মুসলিমদের প্রতি তাদের হৃদয় কোমল হয়। কিন্তু তাদের কোন ধরনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা আমাদের জন্য জায়েয নয়। কারণ আমরা তাওহীদে বিশ্বাসী। তাদেরকে তাদের ধর্ম পালন করতে দিন এবং আপনি আপনার ঈমান ও আক্বীদাতে দৃঢ় থাকুন। কারণ ইসলামে শির্ক নিষিদ্ধ। কোন শিরকি কাজে অংশগ্রহণ করা বা কোন শিরকি কাজে সাহায্য করা সবটাই হারাম। তাই ইসলাম উদারতার যে কনসেপ্ট দিয়েছে সেটার উপর আমল করুন এমন উদারতা দেখাতে যাবেন না যার দ্বারা আপনার ঈমান হারা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

1 মন্তব্যসমূহ

নবীনতর পূর্বতন