শোনা যাচ্ছে সকল টেক কম্পানি সম্মিলিত ভাবে মেটাভার্স তৈরি করবে। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন যেখানে Microsoft, Apple, Google এর মতো প্রতিষ্ঠান একক ভাবেই এত শক্তিশালী সেখানে কেন তারা সাবলম্বী হওয়া শর্তেও Meta-র অধীনে কাজ করবে? বলা হচ্ছে মেটাভার্স কোন একক কম্পানির অধীনে থকবে না। বরং এটা অনেকটা বর্তমান সময়ের ইন্টারনেটের মতো কাজ করবে। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মেটাভার্সের মধ্যে তাদের নিজেদের মতো করে Environment তৈরি করবে। কিন্তু আপনি যেমন গুগলে কোন বিষয়ে ব্রাউজ করতে গেলে বিভিন্ন সাইটের কন্টেন্ট পান, ঠিক একই ভাবে মেটাভার্সেও একজন ব্যাক্তি একটি কম্পানির তৈরি করা এরিয়া থেকে অন্য কম্পানির তৈরি করা এরিয়াতে যেতে পারবে।
এখন আসা যাক আসল প্রসঙ্গে,
মেটাভার্স সামনে পৃথিবীতে একটি ব্যাপক বিস্তার করবে। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের জীবনে এটির প্রভাব ঠিক কতটুকু হবে?
পূর্বে উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করলেই বুঝতে পারবেন একটা সময়ে গিয়ে মেটাভার্স আপনার সকল কাজেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ভিডিও গেমগুলোতে আপনাকে যেমন নকল বাড়ি, গাড়ি, জায়গা কিনতে হয় তেযন মেটাভার্সেও কিনতে হবে যার পিছনে আছে সস্তা কিছু কোডিং আর 3D Model. এরমধ্যেই বেশ কিছু ডিজাইনার মেটাভার্সে বিক্রয় যোগ্য কৃত্রিম বাড়ির ডিজাইন করে চলেছে। কিন্তু এই কৃত্রিম বাড়িগুলো কিনতে আপনাকে ব্যবহার করতে হবে আসল টাকা। বর্তমান সময়ের সাধারন গেমগুলোতেই যেখানে মানুষ হিসাববিহীন ভাবে তাদের টাকা ঢেলে চলেছে সেখানে মেটাভার্স এর প্রসঙ্গ আসলে তারা কি করতে পারে তা আচ করাটা খুব একটা কঠিন কাজ নয়।
মেটাভার্স দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে যুবক সম্প্রদায় এবং ধনী সমাজের ব্যাক্তি বর্গরা। চিন্তা করে দেখুন, পর্ণ ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে মেটাভার্স কতোটা জঘণ্য করে তুলবে। ফলে সিক্রেট সোসাইটি আরো সহজে বাঁধাহীন ভাবে তাদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
যদি এককথায় বলতে বলেন তাহলে মেটাভার্স খুব তারাতাড়ি সোসাল মিডিয়ার জায়গা দখল করে নেবে। এখন আপনিই ভেবে দেখুন মেটাভার্সের সদস্য সংখ্যা কততে গিয়ে ঠেকবে।
এখন একজন মুসলিম হিসেবে আপনার জন্য সমাধান কি হতে পারে। আমি আপনাকে বলতে পারবো না যে, কোন অবস্থাতেই মেটাভার্স ব্যবহার করবেন না। কারন বোঝাই যাচ্ছে ভবিষ্যতে আপনি তা ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। তাই আপনার জন্য একমাত্র উপায় হবে যতটা সময় পারা যায় ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে দূরে থাকা। যদি একবার আপনি এতে আসক্ত হয়ে পরেন, তবে এটগ থেকে বের হওয়া আপনার জন্য একটা বিশাল যুদ্ধের মতো হয়ে যাবে। বর্তমানে একজন মানুষ গেম, সোসাল মিডিয়া বা পর্ণগ্রাফিতে যতটা আসক্ত হয়ে পড়ে তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি প্রভাব পরবে মেটাভার্সের ক্ষেত্রে। কিন্তু এটি যত কঠিনই হোক না কেন হাল ছাড়া যাদে না, নিরাশ হওয়া যাবে না। কারণ মুসলিমরা কখনো হতাশ হয় না। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে চেষ্টা করে যেতে হবে।
সবশেষে একটা কথাই বলবো,
"মুসলিমরা প্রস্তুত হও,
ফিতনার নতুন ইউনিকর্ণ আসছে।"
