বাংলায় ইসলামের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম

 

বাংলায় ইসলামের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামকে বলা হয় ইসলামের প্রবেশদ্বার। এ ভূমি রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সময়েই কতিপয় সাহাবায়ে কেরাম রা. পদধূলি নিয়ে ধন্য হয়। যার মাধ্যমে একসময় বাংলা তাওহীদের উর্বর ভূমিতে পরিনত হয়। ১৩৩৮/৩৯ সালে চট্টগ্রাম সর্বপ্রথম মুসলিম শাসনাধীনে আসে স্বাধীন সুলতানী আমলে। এ সময় চট্টগ্রাম আক্রমণ করেন সূফী কদল খান গাজী রহ. তাঁর আক্রমণ ছিলো রাউজান হয়ে। বর্তমানে রাউজানের কদলপুর নামক জায়গাটি তাঁর সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে কর্ণফুলী হয়ে চট্টগ্রাম আক্রমণ করেন শাহ বদর আলম বা বদর পীর। বলা হয়ে থাকে চট্টগ্রামে জনবসতি বৃদ্ধি পায় তাঁর হাত ধরেই। তাঁর জ্বালানো চেরাগ থেকে চাঁটিগা'র নামকরণ করা হয় বলে একদল ঐতিহাসিক মনে করেন। তিনি পাথরে চড়ে যে স্থানে নামেন সেটি পাথরঘাটা নামে পরিচিত। তাঁকে বারো আউলিয়ার প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বকশিরহাটে তাঁর সমাধি রয়েছে যা বাংলার সবচেয়ে পুরনো স্থাপনা। চট্টগ্রাম আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ১২ জন সুফি এর থেকে উৎপত্তি হয় "বারো আউলিয়া" শব্দটির। ধারণা করা এর মধ্যে ৭ জন ছিলেন কদল গাজী রহ. এর সাথে। অন্যদিকে পাঁচজন ছিলেন পীর বদর আলমের সঙ্গে। এখান থেকেই সম্ভবত "পাঁচপীর বারো আউলিয়া" শব্দটি পরিচিতি পায়। কদল খান গাজী ও বদর পীরের সঙ্গীদের একত্রে বলা হয় "একাদশ মিত্র" এদের মধ্যে অন্যরা হচ্ছে, 

২/কুতুব শাহ

৩/ তারেক শাহ( টাকশাহ)

৪/বদনা শাহ

৫/ মোহসেন শাহ

৬/ শাহ চান্দ 

৭/শাহ ওমর

৮/ মোল্লা মিসকিন 

৯/ গরীবুল্লাহ শাহ

১০/ কদল শাহ


চট্টগ্রাম আক্রমণে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ সৈন্য দিয়ে পীর সাহেবদের সহায়তা করেন।


সম্ভবত কদল খান ও পীর বদর আলমের আগমনকাল কিছুটা আগেপিছে।আসকার ইবনে শাইখের মতে কদল খান গাজী রহ. এর অভিযানের খবর পেয়ে ৩৬০ জন সঙ্গীসহ পীর বদর আলম রহ.চট্টগ্রামে তাশরীফ আনেন। অসংখ্য পীর-আউলিয়া-মুজাহিদদের রক্তের বিনিময়ে ১৩৩৮-১৩৪৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রামের বিরাট একটি অংশ বাংলা সালতানাতের শাসনাধীনে চলে আসে। চকরিয়ার প্রত্যান্ত অঞ্চলে শাহ ওমর রহ. এর সমাধি জানান দেয় সুলতানি আমলেই নাফ সাম্রাজ্যে ইসলামের আগমন ঘটে। চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে বনপুকুর নামক জায়গায় খাঁ মসজিদকে মুঘল আমলের পরিবর্তে সুলতানি আমলের নির্মিত বলে মনে করেন। ১৬৬৬ সালের ২৭ জানুয়ারী মুঘল সেনাপতি বুজুর্গ উমেদ খাঁ চট্টগ্রাম জয় করে নেন এরপর এটির নামকরণ করা হয় ইসলামাবাদ। ব্রিটিশ শাসন পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম তার গাম্ভীর্য হারাতে শুরু করে। যাদের রক্তের বদৌলতে এ ভূমি তাওহীদের ছায়াতলে আসে তাদের সমাধিগুলো শির্ক বিদয়াতের আস্তানায় পরিণত হতে শুরু করে। 


সহায়িকা : 

মুসলিম আমলে বাংলার শাসনকর্তা 

আসকার ইবনে শাইখ 

চট্টগ্রামে ইসলাম 

মুফাখ্খারুল ইসলাম

বারো আউলিয়ার চট্টগ্রাম

মো.ফখরুদ্দীন 


ওলী-আউলিয়ার রক্তে ভেজা এ যমীনের রাজপথে "গেরুয়া স্লোগান " বইমেলায় ইসলামি বই নিষিদ্ধ " জানান দেয় কদল গাজী, বদর পীরের উত্তরসূরীরা তাদের পৌরুষত্ব হারিয়ে ফেলেছে। চট্টেশ্বরীর দ্রুতই উত্থান ঘটতে যাচ্ছে।


লেখকঃ মুহাম্মদ শওকত

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন