বিয়ের পর বউয়ের পর্দা রক্ষা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ!
চ্যালেঞ্জটা গ্রামে আরও বেশি। ৪ বোনের মধ্যে ছোট বোন পূর্ণ পর্দা চর্চা করায় পরিবারে কিছুটা বুঝ থাকলেও পূর্ণ বুঝের এখনো ঘাটতি রয়েছে৷ আমার ক্লাস টেন পড়ুয়া ভাগিনা এসে কাতরস্বরে আমাকে বলে - মামা, আমিও মামীকে দেখতে পারবো না? আমি উত্তর দিলাম - না।
বলা যত সহজ, বাস্তবায়ন এর চেয়ে ঢের কঠিন। নিজ বাড়িতে গেলেই বড় ভাই আছে বলে হয়তো ভাইকে, না হয় বউকে আলাদা খেতে হয়। দুলাভাইরা আসলে তো বিষয়টা আরও জটিল। চাচী হয়তো ভাবছে- নতুন বউ, চাচা তো দেখবেই, বাবার মতোই। কিন্তু বাবা আর 'বাবার মতো' এর ফারাক বুঝাতে হচ্ছে।
গ্রামে সকলে এত বেশি কানেক্টেড যে এনি টাইম যে কেউ চলে আসে বাড়িতে, দরজা ভালোভাবে লক না থাকলে অনুমতিরও কেউ প্রয়োজন মনে করে না। তাই বাড়িতে থাকলে প্রতিটি মুহূর্ত বউয়ের পর্দা নিশ্চিত করায় সচেতন থাকতে হয় নিজ বাড়ির মধ্যেই।
গ্রামে খুব ভালোবাসে এমন কোনো ভাই হয়তো বাড়িতে এসে বলছেন - বিয়ে নাকি করেছো, বউ দেখাবা না? আমি উত্তর দিই, বউ তো পর্দানশীন, পুরুষ মানুষের দেখা যাবে না যে ভাইয়া।
অন্ধকারে আলো জ্বালানোর মধ্যে অবশ্য একটা অন্যরকম আনন্দও আছে। এই সমস্যা এবং জনগণের অনভ্যস্ততার কারণে দাওয়াতী কাজ হয়। পর্দা মানে যে এমন, এই বিষয়টার বুঝ তো অন্যদের মধ্যেও আনতে হবে। এই কাজটা হয়।
তবে হ্যাঁ, বুঝের ঘাটতি কিছুটা থাকলেও বাড়ির লোকজনের সহায়তায় কঠিন বিষয়গুলো কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে৷ গ্রামে বাংলাদেশীয় কালচারাল শালীনতাকেই পর্দা মনে করার যে প্রবণতা, সেই প্রবণতার বিরুদ্ধে একটা সংগ্রাম চালাতে হচ্ছে যদিও।
বিয়ের আগে থেকেই বউ বিষয়ে খুব কনসার্নিং যে কয়েকটা বিষয় ছিল, তার একটি হল - বউ যেন পর্দা ব্যাপারে সচেতন হয়। পর্দা মানে হিজাব পর্যন্ত না; নিকাবসহ। আলহামদুলিল্লাহ, বউ বিয়ের আগে হতেই পূর্ণ পর্দা করার ব্যাপারে সচেতন ও সচেষ্ট। এমনকি বিয়ের আলোচনাকালে তার পক্ষ হতে দুই-তিনটা দাবীর প্রথমটি হল - পর্দা করতে দিতে হবে। এ যেন চাইলাম মেঘ, পেলাম বৃষ্টি! এটা যে কী স্বস্তিকর আর তৃপ্তির!
চোখ-কান খোলা রাখলে স্পষ্টতই বুঝা যায় - পূর্ণ পর্দার প্রবণতাও বেশ বাড়ছে। স্বপ্ন দেখছি এমন এক সমাজের, যেখানে স্ত্রীর পর্দার মতো একটি মৌলিক ফরজকে পালন করতে "৯০% মুসলিম দেশে" সংগ্রাম করতে হবে না, স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
আর আমি দোয়া করি সেসকল ভাইদের জন্য, যাদের আমি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসেবেই জানতাম, যারা ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গের স্বপ্ন দেখতেন কিন্তু ভাইয়েরা দাইউস হওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। আল্লাহ যেন তাদের ও আমাদের দ্বারা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কাজই করিয়ে নেন, আমীন।
- মুহাম্মদ এনামুল হক
