----------------------------------------------------------------
পারগালি ইব্রাহিম পাশা (১৪৯৫ --১৫৩৬) ছিলেন মহামতি সুলতান সুলাইমান খান কর্তৃক নিযুক্ত অটোমান সাম্রাজ্যের প্রথম উজিরে আজম (Grand Vizier)। পারগালি ইব্রাহিম পাশা আনুমানিক ১৪৯৫ খ্রিষ্টাব্দে ততকালীন ভেনিস প্রজাতন্ত্রের (বর্তমান উত্তর-পশ্চিম গ্রিসের) সমুদ্র উপকূলবর্তী শহর পার্গায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন জেলে অথবা নাবিক। ইব্রাহিম পাশা অর্থোডক্স খ্রিষ্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। তাঁর জাতিসত্তা সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা যায় না ; তবে তিনি স্লাভিক উপভাষা, গ্রিক এবং আলবেনিয়ান সহ বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। ১৪৯৯ সাল থেকে ১৫০৫ সালের মধ্যে তিনি বসনিয়ার অটোমান গভর্নর ইস্কান্দার পাশা কর্তৃক দাস হিসেবে আটক হন এবং ইস্কান্দার পাশার প্রাসাদে ক্রীত দাস হিসেবে আসেন। ১৫১৪ সালের দিকে এদির্নে ইস্কান্দার পাশা রাজনৈতিক কারণে গমন করলে তিনিও তাঁর সাথে সেখানে গিয়েছিলেন। এদির্নেই অটোমান সম্রাট ও অটোমান খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা 'ইয়াভূজ' সুলতান সেলিম খানের পুত্র মানিসার সানজাক বে শাহজাদা সুলাইমানের (ভবিষ্যত সুলতান সুলাইমান) সাথে তাঁর দেখা হয় এবং শাহজাদা সুলাইমান তাঁকে নিজের সাথে করে নেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ইব্রাহিম নিজের বিদ্যা, বুদ্ধি, কাজ, দক্ষতা এবং বিশ্বস্ততার দ্বারা শাহজাদা সুলাইমানের মন জয় করেন। শাহজাদা সুলাইমান এবং তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু তে ও সুলাইমানের সবচেয়ে কাছের সহচরে পরিণত হন। সুলাইমান তাঁকে নিজের 'ভাই' হিসেবে সম্বোধন করেন এবং তিনি শাহজাদা সুলাইমানের বাজপাখিরক্ষক (Royal Falconer) নিযুক্ত হন। ১৫১৫ সালে শাহজাদা সুলাইমানের স্ত্রী মাহিদেভরান সুলতানের গর্ভে শাহজাদা মুস্তাফা জন্মগ্রহণের পর থেকেই শাহজাদা মুস্তাফার সাথে পারগালি ইব্রাহিমের সখ্যতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৫২০ সালে সুলতান প্রথম সেলিম মৃত্যুবরণ করলে তাঁর একমাত্র পুত্র সুলতান সুলেমান খান সিংহাসনে বসেন এবং সিংহাসনে বসার পর থেকেই তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও সীমানা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। সিংহাসনে আরোহণের পর সুলতান সুলাইমান বাজপাখিরক্ষক পারগালি ইব্রাহিম কে তাঁর খাসকামরাপ্রধান (chief of pvy chamber) নিয়োগ করেন। ১৫২১ সালে বেলগ্রেড ও ১৫২২-২৩ সালে রোডস অভিযানে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ১৫২৩ সালে বৃদ্ধ উজিরে আজম পিরি মেহমেদ পাশা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন (তিনি ১৫১৮ সালে সুলতান সেলিম কর্তৃক উজিরে আজম নিযুক্ত হয়েছিলেন)। পিরি মেহমেদ পাশা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সুলতান সুলাইমান অটোমান সাম্রাজ্যের প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করে, খাসকামরা প্রধান ইব্রাহিম কে সরাসরি 'উজিরে আজম' হিসেবে নিয়োগ করেন। খাসকামরাপ্রধান কে সরাসরি উজিরে আজম নিয়োগ করার ফলে রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ উজির দের অনেকেই অসন্তুষ্ট হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আহমেদ পাশা (Hain Ahmed Pasha /'Hain' means 'The Traitor') এবং দামাত ফেরহাত পাশা (শাহজাদি বেহান সুলতানের স্বামী)
দূর্নীতি ও প্রজাদের উপর অত্যাচারের কারণে ফেরহাত পাশার পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড হয়। আয়শা হাফসা সুলতানের অনুরোধে প্রথমে তাঁকে ক্ষমা করা হলেও তিনি পরবর্তীতে অপকর্ম চালিয়ে যেতে থাকলে তাঁকে সুলতান মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
ইব্রাহিম পাশার প্রতিদ্বন্দী দ্বিতীয় উজির আহমেদ পাশাকে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। আহমেদ পাশা প্রভাবশালী আরব ও মামলুক নেতৃত্বের সাথে হাত মিলিয়ে মিশরকে অটোমান সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন এবং নিজের নামে মুদ্রা চালু করে মসজিদে তাঁর নামে খুতবা পড়ানোর ব্যবস্থা করেন। আহমেদ পাশা মিশরে বিলাসী জীবন-যাপন ও রাষ্ট্রের টাকায় আমোদ-প্রমোদ ও ফূর্তিতে ব্যস্ত থাকায় প্রদেশে ব্যাপক অরাজকতা ও অভাব-অনটনের সৃষ্টি হয়।
আহমেদ পাশার বিদ্রোহ দমন করতে উজিরে আজম ইব্রাহিম পাশাকে ১৫২৫ সালে মিশরে পাঠানো হয়। আহমেদ পাশাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং ইব্রাহিম পাশা কঠোর হস্তে মিশরে বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি কঠোর হস্তে দূর্নীতিগ্রস্ত আরব প্রভাবশালীদের শাস্তি প্রদান করেন এবং সমগ্র প্রদেশে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন, ভেঙে পড়া প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস করেন ইব্রাহিম পাশা। এভাবে সফলভাবে তিনি মিশরে গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে মিশরকে পুনরায় একটি সমৃদ্ধশালী প্রদেশে পরিণত করেন।
পূর্বে একসময় ইতিহাসবিদরা মনে করতেন, ইব্রাহিম পাশার সাথে সুলতান সুলেমানের বোন হেতিজা সুলতানের বিবাহ হয়েছিলো, স্বল্প পরিমাণ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই ধারণা হতো। কিন্তু ইতিহাসবিদদের সর্বশেষ গবেষণায় এটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তুর্কি ইতিহাসবিদ এব্রু তুরানের গবেষণায় , মুহসিনে হাতুন সম্পর্কে অটোমান ও ভেনেসীয় রেফারেন্স এবং একই সাথে মুহসিনে হাতুন স্বাক্ষরিত ইব্রাহিম পাশাকে লেখা একটি চিঠির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, ইব্রাহিম পাশার সাথে মুহসিনে হাতুনের বিবাহ হয়েছিলো। মুহসিনে হাতুন ছিলেন সুলতান সুলেমানের স্ত্রী মাহিদেভরান গুলবাহার সুলতানের ভাই বিতু মোস্তফা পাশার মেয়ে। ১৫২৩ সালে একটি চমৎকার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুহসিনের সাথে ইব্রাহিম পাশার বিবাহ হয়। রাজনৈতিক কারণে এই বিবাহ সম্পন্ন হলেও ইব্রাহিম, মুহসিনের সাথে অত্যন্ত মধুর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। তাঁদের সংসারে মেহমেদ শাহ নামে এক মাত্র পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
অন্যদিকে হেতিজা সুলতানের সাথে প্রিন্স স্ট্যানশি জিরনোয়েভিজের (পরবর্তী নাম ইস্কান্দার চেলেবি ; মন্টিনিগ্রোর গভর্নর) বিবাহ হয়েছিলো।ইব্রাহিম পাশার সাথে শাহজাদি হেতিজা সুলতানের কোনো সম্পর্কই ছিলো না।
উজিরে আজম ইব্রাহিম পাশা 'পারগালি ইব্রাহিম পাশা' (Ibrahim Pasha of Parga), 'ফ্রাঙ্ক ইব্রাহিম পাশা'(Ibrahim Pasha the Westerner) এবং মাকবুল ইব্রাহিম পাশা ("the favourite") হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের পর ''মাকতুল ইব্রাহিম পাশা'' ("the executed")-এ রূপান্তরিত হয়েছিলো।
ইব্রাহিম পাশা ছিলেন অটোমান সাম্রাজ্যের উজিরে আজমদের মধ্যে সবচাইতে বেশি ক্ষমতাবান। সুলতান তাঁকে সর্বপ্রকার দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত নেয়া এবং রাজকার্য পরিচালনা ও সুলতানের অনুপস্থিতিতে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করেন। ইব্রাহিম পাশাই মূলত অধিকাংশ সময় রাজকার্য পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পালন করতেন।
১৫২৬ সালের ২৯শে আগস্ট মোহাচের যুদ্ধে ইব্রাহিম পাশা প্রধান সেনাপতি হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করেন। মোহাচের যুদ্ধে মাত্র কয়েক ঘণ্টার যুদ্ধে হাঙ্গেরির রাজা দ্বিতীয় লুই পরাজিত ও নিহত হন এবং উসমানীয়রা বুদিনসহ হাঙ্গেরির বিশাল এলাকা দখল করে নেয়। সুলতান সুলাইমান ইব্রাহিম পাশার বীরত্ব ও দক্ষতার জন্য তাঁকে
'সেরাস্কার' (সকল অটোমান বাহিনীর সর্বাধিনায়ক) নিযুক্ত করেন। ইব্রাহিম পাশার কূটনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা ছিলো অত্যন্ত প্রখর। তিনি তাঁর কূটনৈতিক প্রজ্ঞার দ্বারা ১৫৩৩ সালে সম্রাট পঞ্চম চার্লস কে বাধ্য করেন হাঙ্গেরিকে অটোমান সাম্রাজ্যের ভাসাল রাষ্ট্রে পরিণত করতে। তিনি পশ্চিমা খ্রিস্টানদের সাথে কূটনৈতিক ততপরতার মাধ্যমে অটোমান সাম্রাজ্যের ব্যাপক সফলতা বয়ে আনেন ; এই কাজে তিনি ছিলেন সফল একজন পাশা। ১৫৩৫ সালে তিনি ফ্রান্সের রাজা প্রথম ফ্রান্সিসের সাথে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে ফ্রান্সকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেবার বিনিময়ে ফ্রান্স ও অটোমান সম্মিলিতভাবে হাবসবুর্গদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার চুক্তিতে আসা হয়, গঠিত হয় 'Franco-Ottoman Alliance", যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে অটোমানদের প্রভাব বিস্তারে সাহায্য করেছিলো।
১৫৩৩ থেকে ১৫৩৬ সালের মধ্যে উজিরে আজম ইব্রাহিম পাশা নিজ অধিনায়কত্বে অসংখ্য সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে মলদোভা, ট্র্যান্সেলভেনিয়া ও ওলেশিয়াকে অটোমান সাম্রাজ্যের ভাসাল রাষ্ট্রে পরিণত করেন। এভাবে ইউরোপের বিশাল অংশকে তিনি তাঁর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক দক্ষতার দ্বারা অটোমান খিলাফতের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করে অটোমানদের বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করেন।
ইব্রাহিম পাশা ইরানের শিয়া সাফাভিদ সাম্রাজ্যের সম্পূর্ণ ভূমি অটোমান শাসনাধীনে আনার অঙ্গীকার করেন এবং নিজ অধিনায়কত্বে শাহ প্রথম তাহমাস্প-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে সাফাভিদ সাম্রাজ্যের রাজধানী তাব্রিজ বিজয় করেন।
ভেনেসীয় কূটনীতিকরা ইব্রাহিম পাশাকে 'Ibrahim the magnificent' হিসেবে গণ্য করতো, যা ছিলো মূলত সুলতান সুলেমানের উপাধি। ইব্রাহিম পাশার কূটনৈতিক দক্ষতা ভ্যাটিকান সিটির পোপের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।
ইব্রাহিম পাশা বহু পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করলেও তিনি তাঁর বাবা-মায়ের সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং তাঁর বাবা-মাকে পার্গা থেকে রাজধানী তে নিয়ে আসেন। সেখানে তাঁরাও ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা 'ইউসূফ' নাম গ্রহণ করেন ও এপিরাসের গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ইব্রাহিম পাশা পশ্চিমা সাজ-সজ্জা, সংস্কৃতি, শিল্প, রীতি-রেওয়াজ ইত্যাদি অনেক পছন্দ করতেন ; ফলে তিনি 'Frenk Ibrahim Pasha' (Ibrahim Pasha the westerner) হিসেবে পরিচিতি পান।
ইব্রাহিম পাশা সুদীর্ঘ ১৩ বছর উসমানীয় সালতানাতের উজিরে আজম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাপক কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার কারণে ধীরে ধীরে তাঁর মনে অহংকারের জন্ম নেয়। তিনি ধীরে ধীরে দাম্ভিক আচরণ করতে থাকেন।
তিনি পূর্বে 'নিজেকে অটোমান সাম্রাজ্যের পেছনের মূল শক্তি' হিসেবে ইউরোপিয়ানদের কাছে উপস্থাপন করে তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের অনেক লাভজনক চুক্তি সম্পাদন করানোর ক্ষেত্রে সফল হয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার অহংকারে ইব্রাহিম পাশা ধীরে ধীরে সুলতানের প্রতি আনুগত্য হারাতে থাকেন। তিনি বিজিত রাষ্ট্রে প্রজা ও সৈন্যদের সামনে নিজেকে 'সেরাস্কার সুলতান' হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি নিজের অসংখ্য ভাস্কর্য নির্মাণ করেন, ধার্মিক প্রজারা যেটাকে ভালোভাবে মেনে নেয় নি।
এছাড়া দাসী থেকে সুলতান সুলতানের প্রিয় স্ত্রী হওয়া হুররেম সুলতানের সাথে দ্বন্দ্ব ও শত্রুতার কারণে হুররেম সুলতান সব সময়ই ইব্রাহিম পাশার ক্ষতির চেষ্টা করতে থাকেন।
ইবরাহিম পাশার সাথে এক অভিযানের সময় ইস্কান্দার চেলেবি নামে এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় এবং ইব্রাহিম পাশার মদদে তাঁকে ফাঁসি দেয়া হয়।
এসব নানা কারণে সুলতান ধীরে ধীরে তাঁর প্রিয় বন্ধু ইব্রাহিম পাশার প্রতি আস্থা হারাতে থাকেন এবং ১৫৩৬ সালের ১৫ মার্চ নৈশভোজ শেষে তোপকাপি প্রাসাদে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে সুলতানের নির্দেশে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর সুলতান তাঁর মৃতদেহ গোপন স্থানে সমাহিত করার নির্দেশ দেন এবং নির্দেশ দেন, তিনি সহ কেউই যেন তাঁর কবরের সন্ধান না পান। দীর্ঘদিন অজ্ঞাত থাকার পর ইতিহাসবিদেরা তুরস্কের কাবাটাস ডিস্ট্রিক্টে তাঁর কবর খুঁযে পান এবং তাঁর সমাধি চিহ্নিত করেন।
ইব্রাহিম পাশার মৃত্যুর পর তাঁর সমস্ত সম্পত্তি রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করে!
ভালো-খারাপ নিয়েই একজন মানুষ। পৃথিবীর একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ কখনোই পরিপূর্ণভাবে ভালো বা নিষ্পাপ হতে পারেন না। ইব্রাহিম পাশারও অন্যায় থাকতে পারে, হয়তো ছিলো ; তবে অটোমান সাম্রাজ্য বিস্তারে ইব্রাহিম পাশার অবদান যে অতুলনীয় -- এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
সিরিজে প্রদর্শিত কাল্পনিক 'নিগার কালফা' বা 'লিও' নামের কোনো চরিত্রের অস্তিত্বের প্রমাণ ইতিহাসে পাওয়া যায় না। ইব্রাহিম পাশা জীবিত থাকলে অটোমান সাম্রাজ্যের উন্নতি আরও বিস্তৃত হতো -- একথা জোর দিয়ে বললেও অন্যায়ের কিছু হয় না। তবে, এখন এগুলো কেবলই ইতিহাস। ইতিহাস প্রত্যেককে তাঁর প্রাপ্য সম্মান প্রদান করে -- এটাই ইতিহাসের নিয়ম। তাই আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক উজিরে আজম, কবরে যাঁর সেইসময় স্মৃতিফলকও জোটেনি ---তিনি আজ নতুন করে তাঁর কর্মের জন্য আলোচিত হচ্ছেন। সুদূর বঙ্গদেশেও ইব্রাহিম পাশার মৃত্যুদণ্ডের এপিসোড দেখানোর সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশিষ্ট লেখক ও অনলাইন এক্টিভিস্টরা প্রতিবাদ করেছিলেন, চালিয়েছিলেন কলম। এভাবেই ইতিহাস যোগ্য ব্যক্তিকে সব সময় তাঁর প্রাপ্য সম্মান প্রদান করে। এজন্যই হয়তো ১২৫ বছর পর ভারতে নেতাজি সুভাষ বোসের জন্মদিন পালিত হচ্ছে, ৫০০ বছর পরে সুদূর বঙ্গদেশে ইব্রাহিম পাশার কথা আলোচিত হচ্ছে।
❤️আল্লাহ্ ইব্রাহিম পাশা কে জান্নাতে নসীব করুন।আমিন♥♥
✍️✍️লেখক :-রাজিত তাহমীদ জিত
তথ্যসূত্র :--
1..Jenkins, Hester Donaldson. Ibrahim Pasha: grand vizir of Suleiman the Magnificent (1911) online
2.Şahin, Kaya (2013). Empire and Power in the Reign of Süleyman: Narrating the Sixteenth-Century Ottoman World. Cambridge University Press. ISBN 978-1-107-03442-6.
3.Turan, Ebru (2009). "The Marriage of Ibrahim Pasha (ca. 1495-1536): The Rise of Sultan Süleyman's Favorite to the Grand Vizierate and the Politics of the Elites in the Early Sixteenth-Century Ottoman Empire". Turcica. 41: 3–36. pnline
4.উইকিপিডিয়া
5. "The Biography of Mahidevran" (2016) -- Natalia Von Anrep
