১৫৭৭ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উজিরে আজম সোকল্লু মেহমেদ পাশার নির্দেশে তাঁর জন্মভূমি বসনিয়ার ভিসিগ্রাদে দ্রিনা নদীর উপর এই সেতু নির্মাণ করেন রাজস্থপতি মিমার সিনান। এই চমৎকার স্থাপত্যকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য নিদর্শন আখ্যায়িত করেছে।
সোকল্লু মেহমেদ পাশা হলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের ৩৫ তম উজিরে আজম এবং ষোড়শ শতাব্দীর উসমানীয় ইতিহাসের সবচাইতে প্রভাবশালী উজিরে আজমদের একজন। তিনি ১৫৬৫ সাল থেকে শুরু করে ১৫৭৯ সাল পর্যন্ত সুলতান সুলেমান দ্যা ম্যাগনিফিসেন্ট, দ্বিতীয় সেলিম ও তৃতীয় মুরাদ - এই তিন সুলতানের শাসনামলে মহান অটোমান সাম্রাজ্যের উজিরে আজম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুলতান প্রথম সুলেমানের রাজত্বকালে ১৫৪৩ সালে প্রাসাদ রক্ষীদের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। ১৫৪৬ সালে তিনি নৌসেনাপতি (কাপুদান পাশা) নিযুক্ত হন। এরপর, পর্যায়ক্রমে রুমেলির বেইলারবে (গভর্নর জেনারেল), তৃতীয় উজির, দ্বিতীয় উজির ও ১৫৬৫ সালে উজিরে আজম নিযুক্ত হন। ১৫৬৬ সালে হাঙ্গেরির জিটভেয়ার দূর্গে অভিযান চলাকালে জিটভেয়ারের পতনের পূর্বেই সুলতান সুলেমান দ্যা ম্যাগনিফিসেন্ট সেনা শিবিরে ইন্তেকাল করেন । সুলতান দ্বিতীয় সেলিম সিংহাসনে বসার পর সোকল্লু মেহমেদ পাশা পূর্বের থেকে বেশি প্রতিপত্তি সম্পন্ন হয়ে ওঠেন। দ্বিতীয় সেলিম মদ্যপ হওয়ায় অধিকাংশ সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় হেরেমে সময় কাটাতে পছন্দ করতেন ও রাজকার্যে অমনোযোগী ছিলেন। ফলে, উজিরে আজম সোকল্লু মেহমেদ পাশা কেই রাজকার্য পরিচালনা করতে হতো। তাঁরই সুদৃঢ় তত্ত্বাবধায়নে সুলতান সুলেমানের মৃত্যুর মাত্র দুই বছরের মধ্যে ১৫৬৮ সালে ওলেশিয়া ও মলদোভার উপর অটোমানদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৫৭১ সালে লালা মুস্তাফা পাশা কর্তৃক সাইপ্রাস দ্বীপ বিজিত হয়। ১৫৭৪ সালে দ্বিতীয় সেলিমের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শাহজাদা মুরাদ (সুলতান তৃতীয় মুরাদ) সিংহাসনে বসেন ও তিনি উজিরে আজম হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন চালিয়ে যান । ১৫৭৯ সালে সোকল্লু মেহমেদ পাশা এক আততায়ী কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হন। শেষ হয় এক কিংবদন্তির বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন।
ব্যক্তিগত জীবনে সোকল্লু মেহমেদ পাশা সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের জ্যেষ্ঠ কন্যা ইসমিহান সুলতান কে বিবাহ করেন (১৫৬২) এবং সুলতানজাদা ইব্রাহিম নামে এক সন্তানের জনক তিনি।
১৫৭৭ সালে সোকল্লু মেহমেদ পাশার নির্দেশে অটোমান রাজস্থপতি মিমার সিনান, পাশার জন্মস্থান পূর্ব বসনিয়া ভিসিগ্রাদে দ্রিনা নদীর উপর নির্মাণ করেন বিশ্বের অনিন্দ্য সুন্দর স্থাপত্য কর্মের নিদর্শন মেহমেদ পাশা সোকলোভিচ ব্রিজ।
(বসনিয়ার 'সোকলু' নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করায় মেহমেদ পাশার নামের পূর্বে "সোকল্লু" যুক্ত করা হতো)
Image : পূর্ব বসনিয়ার ভিসিগ্রাদে দ্রিনা নদীর উপরে অবস্থিত মেহমেদ পাশা সোকলোভিচ ব্রিজ
