টেকনোলজি আজকে এত এগিয়ে গিয়েছে যে মানুষ আজ চাইলেই এমন একটি সুট তৈরি করতে পারবে যার ভিতরে থাকবে এমন সব সেন্সর তার ফলে একজনের কাছে সবকিছুই একদম বাস্তব বলে মনে হবে। ফলে মেটাভার্সের ভিতরে কোন একটি শীতল জায়গায় গেলে আপনার শীত লাগবে। আবার কোন মরূ এলাকায় গেলে গরম অনুভুতি হবে। বাস্তব জগতে যেখানে মানুষের যাতায়াতের জন্য এত অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন হয় সেখানে তার কাছে যদি মেটাভার্সের এমন এক দুনিয়ার অপশন থাকে তবে সে নিঃসন্দেহে তা গ্রহণ করবে।
আপনি যদি আপনার চারপাশে তাকান তবে খেয়াল করবেন বাস্তব জগতের সবকিছুকেই অনলাইনে কত্তিম করে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। মানুষ যথাসাধ্য চেষ্টা করছে এগুলোকে Ultra Realistic করে তুলতে। সেখানে যদি তার কাছে একটি 3D জগৎ থাকে তবে সহজেই বলে দেওয়া যায় সে সবকিছুকেই সেই 3D জগতে নিয়ে যেতে চাইবে। ফলে Social media, Entertainment, Gaming, Working, Education, E-commerce ইত্যাদি সবকিছুই তখন মেটাভার্স নির্ভর হয়ে যাবে তখন আপনি না চাইলেও আপনাকে জোরপূর্বক মেটাভার্স ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই এই ক্ষেত্রে জোর গলায় বলবে, যাই হয়ে যাক না কেনো আমি মেটাভার্স ব্যবহার করবো না। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন, কোভিড-১৯ এর সময় আপনি না চাইতেও আপনাকে অনলাইনে পড়াশোনা, কাজকর্ম সবই করতে হয়েছে। অনেকেরই ভ্যাক্সিন দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। তবুও সকলকেই ভ্যাক্সিন নিতে হয়েছে। আমি এখানে ভ্যাক্সিন দেওয়ার ভালো-খারাপ দিক সম্পর্কে কিছু বলছি না। আমি বলছি বাধ্যতার কথা। ঠিক একই ভাবে আপনি পছন্দ করুন কিংবা না করুন, আপনার কাজের তাগিদে আপনাকে মেটাভার্সে রোগ দিতে হবে।
অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে,
মেটাভার্সের HD quality - এর 3D world চালাতে তো অনেক হাই স্পিড ইন্টারনেটের প্রয়োজন হবে। যেখানে বাংলাদেশের অধিকাংশ জায়গায় HD quality - তে ভিডিও দেখতে গিয়েই চরম বাফারিং এর শিকার হতে হয় সেখানে মেটাভার্স কতটুকু কার্যকর হবে?
মেটাভার্সকে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনাও সিক্রেট সোসাইটি সম্পন্ন করেছে। সিক্রেট সোসাইটি একদিকে মার্ক জুকারবার্গকে দিয়ে মেটাভার্স তৈরি করাচ্ছে এবং একই সময়ে ইলন মাস্ককে দিয়ে "স্টার লিংক" প্রকল্প বাস্তবায়ন করাচ্ছে। তথ্য অনুসারে, "স্টার লিংক" প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ইন্টারনেটে ডাউনলোড স্পিড হবে 87.25 Mbps. ফলে মেটাভার্সকে বিশ্বব্যাপি পরিচালনা করতে কোন সমস্যাই হবে না।
- চলবে