এবারের আলোচনাঃ- যেসব বোন বিয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, কিন্তু বাসায় অভিভাবক তাদের বিয়ে দেবার ব্যাপারে উদাসীনঃ
(পর্ব-৩ সম্ভব হলে গার্ডিয়েন দের পড়ে শোনান আর এটাই আপাতত শেষপর্ব। সিরিজের পূর্বের পোস্ট গুলো না পড়ে, কমেন্টে বা ইনবক্সে অনর্থক প্রশ্ন রাখবেন না। প্রতিটি প্রসংগ আলাদা আলাদা ভাবে দেওয়া হয়েছে পর্ব ভিত্তিক, তাই যেকোন এক পর্ব পড়লে এক পাক্ষিক লেখা মনে হবে)
.
তারপরেও অনেক কিছুই বাদ পড়বে, পোস্টের দীর্ঘতা পরিহারের জন্য, সুদূর ভবিষ্যতে আরো কিছু অংশ যোগ করে বিয়ে সম্পর্কিত 'এ টু জেড' নোট পাবলিশ এর নিয়ত আছে ইন শা আল্লাহ, সেখানে আরো বিস্তারিত আলোচনা থাকবে।
.
.
এটা তো এই ঘুণে ধরা নষ্ট সমাজের কমন প্র্যাকটিস যে দ্বীনদার সন্তান ও তার চাওয়া পাওয়া গুলি চরমভাবে এখানে অবমুল্যায়িত হয়। [পুর্ব আলোচনার লিংক প্রথম কমেন্টের প্রথমাংশে]
যাহোক স্টাডি করে দেখেছি, সাধারনত কয়েকটা কারণে, অভিভাবক মেয়ের বিয়েতে ডিলে করেন।
.
→ আমাদের সমাজের অধিকাংশ অভিভাবকই মেয়ের ২৫/২৬ বছর হয়ে গেলেও ভাবে এখনও বিয়ের বয়সই হয়নি,অথচ যখন ২৮-৩০ এ যেয়ে ভাল পাত্র পায়না, তখন পস্তালেও আর লাভ হয়না।
.
→ অনেক অভিভাবক মেয়েকে পড়াশোনা শেষ করার আগে বিয়ে দিতে চান না, অথচ পড়াশোনা বিয়ের প্রতিবন্ধক নয়, সহায়ক। প্রথম পর্বে দেখুন। তাছাড়া পড়াশোনার থেকেও বিয়ের গুরুত্ব আগে। [এখানে শুধু দ্বীনি বোনদের ব্যাপারে আলোচনা, ফেমিনিস্ট মুনাফিক এবং মডারেট দ্বীনিরা দূরে থাকুন ]
.
→ আরেকটা আশ্চর্যজনক কারণ যে মেয়েদের ক্ষেত্রেও কিছু অভিভাবক চান, যে মেয়ে আগে কয়েক বছর চাকরি করবে, সংসারে কন্ট্রিবিউট করবে তারপর বিয়ে দিবে। অথচ পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব মেয়ের নয়, মেয়ের অর্থনৈতিক দায়িত্বই পরিবারের উপর ন্যস্ত। [যাদের ভাই নাই, বাবা নাই তারা কী করবে-এ সংক্রান্ত পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে ডিটেইলস তাই এখানে এটা নিয়ে কোন প্রশণ নয়]
.
→ আরেকটা বাজে এবং অদ্ভুত কারণ। বড় বোন এখনও বিয়ে করেনি তাই ছোটবোনের বিয়ে দেওয়া যাবেনা। এটা রীতিমত জুলুম, কারন যদি বড় বোন বিয়ে বিমুখ হয় কিংবা সে দেরী করে বিয়ে করতে ইচ্ছুক হয়, এদিকে ছোট বোন বিয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তাহলে কেন তাকে অপেক্ষমান রাখতে হবে ? এটা জুলুম ছাড়া আর কি? তার জীবনের মুল্যবান সময় গুলো যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এই হারানো সময় কী বড় বোন ফিরিয়ে দিবে বা অভিভাবক?
.
শরীয়াহ যখন কাউকে ক্ষমতা দেয় সেটার স্বদ্যবহারের জন্য। অপপ্রয়োগের জন্য নয়। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে বাতিল, এমন বিয়ে ব্যাভিচার হিসেবে গণ্য হবে এই কারণে কিছু অভিভাবক নিশ্চিন্তে বসে থাকেন, যে সন্তান তো ভদ্র, মান সম্মান ডুবাবেন।
.
অথচ এই জুলুমের জন্য কঠোর ভাবে জবাবদিহি করতে হবে হাশরে অভিভাবক কে। মা-বাবারা ছেলেমেয়েকে প্রচুর খাবার, ভালো কাপড়, ভালো স্কুল কলেজে পড়িয়ে ভাবেন ছেলেমেয়ের সব চাহিদাই তো পূর্ণ করছি। অথচ তা নয়।সুকুন তথা মানসিক প্রশান্তি কখনো মেটাতে পারবেন না মা-বাবা। তখন সন্তানের আবেগের জায়গাগুলো হারাম বিনোদন কেড়ে নেয়।
.
❒ এখন একজন মেয়ের এক্ষেত্রে করণীয় কী ?
বিয়ের জন্য ছেলেদের ক্ষেত্রে ওয়ালী আবশ্যক না হলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে এটা একটা ইখতেলাফি বিষয় যে ওয়ালী (অভিভাবক) এর অনুমতি ছাড়া বিয়ে জায়েজ কিনা?
যতজন ওলামায়ে কেরামদের জিজ্ঞাসা করেছি, দুই ধরণের মতই পেয়েছি। মোট কথার সারমর্ম এই যে-
//
এই প্রশ্নের উত্তর টা মাহযাব ভিত্তিক। হ্যা আবার না দুই ভাবেই।
.
❒ [মতামত-১ঃ] হানাফী মাহযাব অনুযায়ী- মেয়ের ক্ষেত্রে মেয়ে সাবালিকা হলে, অভিভাবক ছাড়াই বিয়ে করতে পারবে। এক্ষেত্রে তাদের দলীলঃ
.
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন,"প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে অভিভাবকের চেয়ে অধিক হকদার।"
[সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ]
.
হানাফী আলেমগণ এই হাদীসের ভিত্তিতে বলেন(ব্যক্তিগত বিষয় বলতে যেহেতু বিয়েকেও বুঝায়),
.
দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক সমঝদার স্বাক্ষীর সামনে প্রাপ্তবয়স্ক পাত্র ও পাত্রীর একজন প্রস্তাব দিলে এবং অপরপক্ষ তা গ্রহণ করে নিলে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি কিংবা উপস্থিতি আবশ্যক নয়।
.
তবুও হানাফী আলেমগণ হাদীস থেকেই বলেন,
তবে যদি মেয়ে গায়রে কুফুতে বিবাহ করে, তথা এমন পাত্রকে বিয়ে করে, যার কারণে মেয়ের পারিবারিক সম্মান বিনষ্ট হয়, তাহলে যতই বিয়ে হয়ে যাক না কেন, বাবা চাইলে সে বিয়ে আদালতের মাধ্যমে ভেঙ্গে দিতে পারে।
.
❒ [মতামত-২ঃ] সম্মানিত হানাফী মাহজাব ব্যতীত আহলে হাদীস, সালাফী মানহাজ বা অন্যান্য সকল মাহজাব এর অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামদের মত হলো, মেয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে বাতিল।
.
তাদের দলীলঃ
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "মেয়ের ওয়ালীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তা বাতিল, বাতিল এবং বাতিল।" [তিরমিযী, ১০২১]
তিনবার বাতিল বলেছেন তিনি।
মেয়েদের ক্ষেত্রে ওয়ালী ছাড়া বিয়ে যে বাতিল, প্রায় সকল মাজহাব এ ব্যাপারে একমত । তবে মেয়ে যদি অভিভাবকের যুলুমের স্বীকার হয় তবে হানাফি মাজহাব সে যুলুম হত বাঁচার জন্য একটু ছাড় দিয়েছে তবে 'অকারণ' পালিয়ে বিয়েকে বৈধতা দেয়নি।
❒ আবার এই ওয়ালী টার্মটারও ব্যাপকতা বিশাল।
.
ওয়ালী বলতে বোঝানো হয় পিতা, দাদা, প্রাপ্তবয়স্ক ভাই (ছোট হোক বা বড়), চাচা, প্রশাসক বা গভর্নর (অথবা তার নিযুক্ত প্রতিনিধি)। ক্রমানুসারে ওয়ালীর দায়িত্বের ভার তাদের উপর বর্তাবে। সর্বপ্রথম পিতা হবেন ওয়ালী। তিনি জীবিত না থাকলে, অথবা পাগল/হারিয়ে গেলে/কাফের হয়ে গেলে তখন ওয়ালীর দায়িত্ব আসবে দাদার উপর। এভাবে ক্রমান্বয়ে ভাই, চাচা ও অন্যদের উপর জিম্মাদারি আসবে।
.
ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে এই ওয়ালী নিয়েও মতভেদ আছে কারন ওয়ালী যদি দ্বীনদার না হোন/ কাফের/অমুসলিম হোন (নামাজ না পড়লেও তো অমুসলিম) ইত্যাদি ক্ষেত্রে ফতোয়া বদলে যাবে।
যেমন কোন কোন আলেম এবং মুফতি তো এও বলেন যে, মেয়ের বাবা নামাজ না পড়লে যেহেতু সে কাফির তাই সে আর মেয়ের বিয়েতে অভিভাবকত্ব করতে পারবেনা। (এটাও মুল আলোচনা নয়, বিতর্ক বাড়াবেন না, যে সালাত একেক ওয়াক্ত মিস দেয় তার ব্যাপারে ইখতেলাফ থাকলেও, যে সালাত মোটেও পড়েনা ও অস্বীকার করে সে কাফের এই ব্যাপারে ওলামাদের কোন ইখতেলাফ নেই।)
.
যাইহোক মেয়ে তার সুবিধেমত যেকোন একটা মতাদর্শ অনুসরণ করতে পারেন যেটা মানলে তার জন্য বিষয়টা সহজ হবে।
_______________
❒ তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এই যে, পিতামাতা কে অন্যায়ভাবে অসন্তুষ্ট রেখে কোন কাজ করলে তাতে যে বরকত আসেনা এ ব্যাপারে সব আলেমগণই ঐক্যমত। অন্যায়ভাবে, নিজেদের পছন্দের জিদ ধরে, বাবা মা কে কষ্ট দিয়ে যে বিয়ে হবে, আল্লাহ এর অবাধ্যতা আর প্রেম দিয়ে শুরু হবে তাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোন না কোন বরকতের অভাব হয়। হয় সংসারে শান্তি থাকেনা বা রিজিকে বরকত আসেনা বা সন্তানরা মনের মত হয়না ইত্যাদি।
.
কিন্তু যদি এমন হয় যে, ওয়ালীদের ক্ষমতার অপব্যবহার করায় মেয়ের উপরই জুলুম করা হয়, মেয়ের বয়স হয়ে যাচ্ছে তাও বাসায় বিয়ের ব্যাপারে উদাসীন,যেমন কিছুদিন আগেই ম্যাট্রিমনি পেইজে পড়লাম বাসায় বোনের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে, তাও ভাই বিয়ের প্রস্তাব আনেনা বোনের। আসলেও ফিরিয়ে দেন, কারন নিজে বউ নিয়ে আরামে থাকেন, বৃদ্ধা মা কে দেখাশোনা বোনই করেন। এখানে ওয়ালী ভাই নিঃসন্দেহে জালেম, তাহলে কী করবে সেই মেয়ে?
.
এভাবে অবিবাহিত থেকে গেলে, মেয়ের ঈমান আকীদাও নষ্ট হতে পারে, চরিত্রও নষ্ট হতে পারে আর তাই মেয়েটি যদি প্রাপ্তবয়স্ক হন, তাহলে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে তার নিজে একাই সিদ্ধান্তে আসা উচিত। তবে তার আগে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে বাসায় রাজী করানোর।
.
যদি বাসায় না মানে এবং মেয়ে যাদের অধীনস্থ তারা দায়িত্বে অবহেলা করে জুলুম করে, পরিবার দ্বীনদার না হয়, মেয়ের উচিৎ কোন দ্বীনদার আত্মীয়ের সাহায্য নিয়ে তাও না পেলে এলাকার কোন ঈমাম/ মুফতির সাহায্য নিয়ে নিজে একাই বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসা।(জুলুমের একেবারে সর্বশেষ পর্যায়ে) অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেছে অলরেডি।
আগে তো কাজী বা খলিফাই সমাধান করে দিতেন কিন্তু দেশে খিলাফাত নেই। যুলুমের স্বীকার মেয়ের উচিত, একজন মুফতির সাথে পরামর্শ করে নিজের বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আল্লাহ তায়ালা তো দেখছেন সবই।
.
❒ পরিবার থেকে নিজেদের পছন্দ করা দ্বীনদার পাত্র/পাত্রীর সাথে (পছন্দ মানে খোঁজ পাওয়া, প্রেম নয়) বিয়ে না মানলে প্রথমেই মাথায় আসবে পালিয়ে যাবার কথা কিংবা কোর্ট ম্যারেজ (যদিও এইসব কোর্ট ম্যারেজ এ ব্যাভিচার হিসেবে গন্য হবার আশংকা থাকে একক্ষেত্রে) হয়ত পরে বাবা মা মেনেও নেয় তবে বাবা মা এর যে মান সম্মান যায় , সমাজে মাথা যে হেইট হয় তা আর রিকভার হয়না। আজীবন একটা ট্যাগ লেগে থাকে জীবনের সাথে যে এরা এভাবে বিয়ে করেছিল।
.
তাই বলে কি শুধু চরিত্র ছাড়া ধন সম্পত্তি মর্যাদা দেখে যাকে তাকে অভিভাবক ধরে আনলেই বিয়ে করে নিতে হবে ? কখনই না। শরীয়তের বিপরীতে পিতামাতা কোন আদেশ করলে তা লংঘন করার নির্দেশও আল্লাহই দিয়েছেন।
.
তাহলে শরীয়ত সম্মত কারন ছাড়া অন্য কারনে (পার্থিব কারণ যেমন বংশ মর্যাদা সম্পদ এর লোভ) অভিভাবক পাত্র কে মেনে না নেন তাহলে উপায় ?
.
অনেক উপায় আছে। একটা মেয়ে চাইলেই অনেক কিছু করতে পারে। অনেক কিছুই মেয়ের হাতে থাকে।
❒ সর্বপ্রথম সে আল্লাহ্ এর কাছে দুয়া করতে থাকবে যেন আল্লাহ্ তার অভিভাবক কে বুঝ দান করে, সে তার অভিভাবক কে বুঝাতে পারে যে সে চাইলে প্রেম করতে পারত, বিবাহ বহির্ভুত শারীরিক সম্পর্ক করতে পারত।এইসব পথে যায়নি সে, কেবলমাত্র আল্লাহ্ এর ভয়ে আর তার বাবা মা এর মান সম্মানের চিন্তায়। তাদের কে বুঝিয়ে বলবে, তার পছন্দের উপর বিশ্বাস রাখতে এবং পাত্র সম্পর্কে অবশ্যই খোজ খবর নিতে। এছাড়াও বুঝানোর কিছু টেকনিক সে পর্ব-১ এ ছেলেদের পর্ব থেকে দেখতে পারে। শেষ পর্যন্ত কাজ নাহলে তো হানাফী মাহজাবের মতটা গ্রহনের অপশন (অবশ্যই মুফতির সাথে পরামর্শ করে)। আর পর্ব-১ ও পর্ব-৩ বাসায় প্রিন্ট করে পড়াতে পারেন ইন শা আল্লাহ। অনেকের কাজ হয়েছে, গার্ডিয়েন বুঝেছেন আলহামদুলিল্লাহ।
.
❒ শরীয়ত কিন্তু একজন মেয়েকেও এই ক্ষমতা দিয়েছে যে, মেয়ে চাইলেই পারে তার পছন্দ করা পাত্র (অবশ্যই শরীয়ত সম্মত কারণ থাকা লাগবে) ছাড়া অন্যত্র বিয়েতে সম্মতি প্রদান না করতে। কারন মেয়ে সম্মতি না দিলে অভিভাবকের কোন হক নেই বিয়ে দেওয়ার।এমন হলে, ঐ নারীকে যদিওবা জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে বিয়ের পরে শরীয়াহ কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে ঐ বিয়ে বাতিল করে দিতে পারবেন। [এই সংক্রান্ত পোস্টের লিংক কমেন্টে]
.
অনুরুপ এটাও অবৈধ যে মেয়ে কেবল তার অবৈধ ভালোবাসার টানে, প্রেমের সম্পর্কের জেরে পিতামাতার অবাধ্য চারন করবে বিয়ের ব্যাপারে। তার নিজের সিদ্ধান্ত ভুল হওয়া সত্তেও শুধু প্রেমের ভিত্তিতে বাবা মা কে কষ্ট দিবে। উভয় ক্ষেত্রেই শরীয়ত সম্মত কারণ থাকতে হবে।
.
❒ আরেকটা আফসোস, কোন মেয়ে কোন পাত্রের দ্বীনদারিতায় মুগ্ধ হয়ে নিজেই বাসায় অভিভাবককে তাকে বিয়ের আগ্রহ জানালে, তাকে বেহায়া ভাবা হয়। অথচ এমন ব্যাপার শরীয়তে হাইলি এপ্রিশিয়েট।
হজরত খাদিজা (রাঃ) , রাসুল (সাঃ) এর দ্বীনদারিতায় মুগ্ধ হয়ে নিজেই তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাছাড়াও,
.
হযরত তাবিত আল-বানানী বর্ণনা করেছেন, আমি আনাসের সাথে ছিলাম এবং তার সাথে তার এক মেয়ে ছিল। আনাস বলেনঃ একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে এসে তাকে নিজের জন্য (বিবাহের জন্য) প্রস্তাব দিলেন।
মেয়েটি বলল, হে আল্লাহর রসূল, আপনার কি আমাকে স্ত্রী হিসেবে প্রয়োজন আছে? আনাস কন্যা বললঃ ছি! মেয়েটার বিনয়ের কত অভাব ! কত বেহায়া সে ! কত লজ্জাজনক! আনাস বলল, সে বরং তোমার চেয়ে ভাল; সে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বিয়ে করতে চেয়েছে, তাই নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। [বুখারী, হাদিস ৪৮২৮]
.
পরহেজগার সেই মেয়ে নিজে থেকেই পিতার কাছে মুসা (আঃ) কে বিয়ে করার ইঙ্গিত দিয়েছিল [সূরা কাসাসঃ২৬-২৭]
আল-মাওয়ুসো আল-ফিকহিয়াহ (৩০/৫০) এ বলেছেন:
একজন পুরুষের ধার্মিকতা, সদগুন এবং সম্মানজনক অবস্থানের কারনে বা ধর্মের প্রতি অনুরাগ দেখে তাকে বিয়ে করার জন্য একজন মেয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে এতে দোষের বা লজ্জাজনক কিছুই নেই; বরং এটি তার একধরণের উত্তম গুণ।
❒ শেষ নাসীহাহ --- অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের পক্ষে, জুলুমের শেষ পর্যায়ে যেয়ে, রাব্বে কারীমের প্রতি তাওয়াক্কুল করে স্বপ্ন পূরন করতে এবং মুল্যবান সময়কে নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে প্রয়োজনে একটু চঞ্চল হউন। [এই সংক্রান্ত লিংক প্রথম কমেন্টের দ্বিতীয়াংশে]
.
'ধৈর্য্য' আর 'সময় অপচয়' এর মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে।সময় নষ্টকে ধৈর্য্য ভেবে ভুল করবেন না।
আর কে কী ভাববে, ভাববেন না। কেউ নিজে থেকে বুঝবেনা আপনার না বলা আর্তনাদ টা, কেউ শুনবেনা প্রতিদিন আপনার গুমরে কাঁদার শব্দটা। জীবন আপনার, তাছাড়া কবরও আপনারই।
Best 7 Casinos in Denver, CO - Mapyro
উত্তরমুছুনLooking for the Best 7 Casinos in Denver? Find 속초 출장샵 out which casinos have the highest-scoring slot games, 과천 출장마사지 of casinos 제주 출장안마 near Denver, CO, is the best 울산광역 출장마사지 casino to 속초 출장샵 play in