মুহাম্মদ বখতিয়ার এর বাংলা বিজয়ের পরবর্তী অবস্থা | বাংলায় মুসলিম শাসন | পর্ব-২

 

মুহাম্মদ বখতিয়ার এর বাংলা বিজয়ের পরবর্তী অবস্থা | বাংলায় মুসলিম শাসন | পর্ব-২

মুহাম্মদ বখতিয়ার এর বাংলা বিজয়ের পরবর্তী অবস্থা। বাংলায় মুসলিম শাসন | পর্ব-২

মুসলমানগণ বিজয়ীর বেশে এ দেশে আগমন করার পর এ দেশকে তাঁরা মনেপ্রাণে ভালোবাসেন, এ দেশকে স্থায়ী আবাসভূমি হিসাবে গ্রহণ করেন এবং এ দেশের অমুসলিম অধিবাসীর সাথে মিলে মিশে বাস করতে চেয়েছেন। শাসক হিসাবে শাসিতের উপরে কোন অন্যায়-অবিচার তাঁরা করেননি। জনসাধারণও তাঁদের শাসন মেনে নিয়েছিল। মুহাম্মদ বখতিয়ার বাংলা বিজয়ের পর আভ্যন্তরীণ আইনশৃংখলা প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি মুসলমানদের জন্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ ও মাদ্রাসা স্থাপন করলেও অমুসলিমদের প্রতি উদার নীতি অবলম্বন করেন। তিনি ইচ্ছা করলে পলাতক লক্ষ্মণসেনের পশ্চাদানুসরণ করে তাকে পরাজিত করতে পারতেন। কিন্তু সে কথা তিনি মনে আদৌ স্থান দেননি। যদুনাথ সরকার তাঁর 'বাংলার ইতিহাসে' বলেন :

..কিন্তু তিনি রক্তপিপাসু ছিলেন না। নরহত্যা ও প্রজাপীড়ন তিনি পছন্দ করতেন না। দেশে এক ধরনের জায়গীর প্রথা বা সামন্ততান্ত্রিক সরকার কায়েমের দ্বারা আভ্যন্তরীণ প্রশাসন ও সামরিক প্রধানদের সন্তুষ্টি সাধন করতেন।"...

(History of Bengal Vol. II, Muslim period p. 9)

মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী তিব্বত অভিযানের সময় বিফল হন এবং দেবকোট (বর্তমানে কি দক্ষিণ দিনাজপুরে পরে) ফিরে আসেন। তিনি দেবকোটে রোগাক্রান্ত হন এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। 

মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীর মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই লখনৌতির (বর্তমান মালদা জেলার অংশ) মুসলমান রাজ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বখতিয়ার খিলজীর মৃত্যু সংবাদ শুনে তাঁর অন্যতম প্রধান অমাত্য মুহাম্মদ শীরান খিলজী লখনৌতি থেকে তাড়াতাড়ি দেবকোটে ফিরে আসেন। অতঃপর দেবকোটে উপস্থিত খিলজী আমীর এবং সৈনিকবৃন্দ তাঁকে নেতা নির্বাচিত করেন এবং তিনি লখনৌতির শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি সম্ভবত এক বৎসরকাল (১২০৭-১২০৮ খ্রিঃ) শাসন করেন। 

এইভাবে সেন বংশের পতনের পর সমগ্র বাংলা দিল্লি সুলতানির অধীনে আসে। বলা বাহুল্য, সমগ্র সুলতানি যুগে বাংলার মুসলিম আধিপত্য কখনই সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত হয়নি। ইলতুৎমিস, বলবন, খিলজী ও তুঘলক শাসনাধীনে বাংলায় বারংবার বিদ্রোহ দেখা দেয়। মহম্মদ বিন-তুঘলকের রাজত্বকালে পূর্ববঙ্গের শাসনকর্তা ফকরউদ্দিন স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ফিরোজ তুঘলক দু'বার চেষ্টা করেও বিদ্রোহ দমন করতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত তিনি বাংলাকে স্বাধীন রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হন। এই রাজ্যের প্রথম বিখ্যাত নরপতি শামস্উদ্দিন ইলিয়াস শাহ।

পরবর্তী পর্বে তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ...

[মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী থেকে নিয়ে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ এর আগ পর্যন্ত বাংলার সমস্ত শাসকদের লিস্ট নিচের চিত্র গুলিতে দেয়া হলো।]


তথ্যসূত্রঃ

(১) বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস, আব্বাস আলী খান।

(২) বাংলার ইতিহাস, আব্দুল করিম।

(৩) স্বদেশ পরিচয়, জীবন মুখোপাধ্যায়।


1 মন্তব্যসমূহ

নবীনতর পূর্বতন