একজন বিজ্ঞানী প্রমান করলেন,
মানুষ জান্নাতে থেকেকে এসেছে, আমরা এই পৃথিবীর বাসিন্দা নয়।
সবাইকে চমকে দিয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ ইলিস সিলভার প্রমাণ করলেন, মানুষ পৃথিবীর বাসিন্দা নয়। তার কিছু যুক্তি আমরা পেশ করছি।
তার আগে আমরা কোরআনের সুরা বাকারার 36 নম্বর আয়াত কি বলে দেখি নি।
Al-Baqarah 2:36
فَأَزَلَّهُمَا ٱلشَّيْطَٰنُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِۖ وَقُلْنَا ٱهْبِطُوا۟ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّۖ وَلَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَٰعٌ إِلَىٰ حِينٍ
অতঃপর শয়তান তাদেরকে জান্নাত থেকে স্খলিত করল। এবং তারা যাতে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল, আর আমি বললাম, ‘তোমরা নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। আর তোমাদের জন্য যমীনে রয়েছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবাস ও ভোগ-উপকরণ’
আমরা সকলেই জানি মহান আল্লাহতালা যখন হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন তখন তাদের জান্নাতে থাকতে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ বলেছিলেন তোমরা জান্নাতে যেভাবে খুশি সেভাবে থাকো, যা খেতে ইচ্ছা করে সেটাই খাও, কিন্তু ওই গাছের নিচে যেও না। যাইহোক একপর্যায়ে হযরত আদম এবং হাওয়া (আঃ) সাল্লাম শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহর আদেশ অমান্য করে সে গাছের নিচে যায় এবং এর ফল খায়। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত আদম এবং তাদের সন্তানকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন সমস্ত ধর্ম মতে যেমনঃ ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলমান সবাই বিশ্বাস করি আমরা এভাবেই পৃথিবীতে এসেছি।
যাইহোক এবার আমরা দেখি বিজ্ঞান কিভাবে এটা প্রমাণ করলো।
মানুষ পৃথিবীতে কিভাবে এসেছে এটা হচ্ছে এমন একটি প্রশ্ন যার উত্তর বর্তমানের বিজ্ঞান এখনো তালাশ করে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা চোখে যা দেখে কেবলমাত্র সেটাই বিশ্বাস করে যার কারণে এই বিজ্ঞানের থিওরি কখনো এক জায়গায় স্থির না থেকে বারবার তার মতামত পরিবর্তিত করে।
কিছুদিন পূর্বে ডাঃ ইলিস সিলভার নামের একজন বিজ্ঞানী একটি বই প্রকাশিত করেন যার বাংলা নাম হচ্ছে, "মানুষ এই পৃথিবীর বাসিন্দা নয়"। উনার এই বইটি সারা বিশ্বে আলোড়ন তোলে ওনার এই বইতে উল্লেখিত থিওরিটি ডারউইন এর মতবাদ, "মানুষ বানর থেকে সৃষ্টি" এটাকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দেয় এবং একটি নতুন মতামতের সৃষ্টি করে।
উনার বয়ান অনুসারে মানুষ এই পৃথিবীর প্রকৃত বাসিন্দা নয় বরং মানুষের জন্ম অন্য কোন জগতে হয়েছিল এবং সে জগত থেকে তাদেরকে এই পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে। ইনি একজন আমেরিকান নামকরা বিজ্ঞানী হবার পাশাপাশি একজন ব্যাখ্যাকারী এবং আমেরিকার নামকরা ইকোলজিস্ট হিসেবে তিনি সবার নিকট সুপরিচিত।
এই বিষয়টি লক্ষণীয় যে বিজ্ঞান কখনোই ধর্মে বিশ্বাস করে না।
তার ভাষ্যমতে,
মানুষকে যে স্থানে সৃষ্টি করা হয়েছিল সেই জায়গাটি অনেক আরামদায়ক এবং প্রশান্তিময় স্থান ছিল। সেখানে মানুষ অনেক সুখে শান্তিতে বাস করত। সেই সাথে সেখানে মানুষ এরা অনেক নরম মেজাজের এবং আরামপ্রিয় ছিল। তারা এমন একটি জগতে বসবাস করত সেখানে তাদেরকে খাবার সংগ্রহের জন্য কোন প্রকার কষ্ট করতে হত না। যেখানে কোন শীত অথবা গরমের অনুভূতি হতো না। বরং সেখানে সর্বদা একই রকমের পরিবেশ থাকত। সে জগতে সূর্যের কোন প্রকার আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ছিল না যেটা মানুষের জন্য কোন প্রকার কষ্টকর অথবা ক্ষতির কারণ হত। অতঃপর তাদের পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়। আর যে এই মানুষদেরকে সেই জগৎ থেকে পৃথিবীতে প্রেরণ করে সেই ব্যক্তি অবশ্যই কোনো শক্তিশালী শক্তির অধিকারী হবে যে সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। সে এতটাই শক্তিশালী যে যাকে ইচ্ছা তাকেই জীবন দান করতে পারে অথবা যাকে ইচ্ছা তাকে মৃত্যু দিতে পারে। সেই সাথে সে সমস্ত রকম প্রাণীকে সৃষ্টি করতে সক্ষম। সেই বিজ্ঞানের ভাষ্যমতে পৃথিবী হল এমন একটি স্থান যেটাকে মানুষের জন্য কারাগার হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। যেখানে শুধুমাত্র অপরাধীদেরকে সাজা ভোগ করার জন্য গ্রহণ করা হয়।
বিজ্ঞানীরা হচ্ছেন এমন ব্যক্তি যারা সর্বপ্রকার গবেষণা করার পর তা জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। উনি এমন কিছু দলিল উপস্থাপন করা হয়েছেন যা কোন মানুষকে ভাবনায় ফেলতে বাধ্য করবে এবং আজ পর্যন্ত কেউ এর বিরোধিতা করতে পারেনি।
এই মতবাদের প্রমাণ স্বরূপ যে সমস্ত উপস্থাপন করা হয়েছে তা এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে।
প্রথম কারণ,
পৃথিবীতে যে গ্রাভিটি রয়েছে সেটি মানুষের সৃষ্টি কৃত স্থানের গ্রাভিটি তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। যেখান থেকে মানুষ এই পৃথিবীতে এসেছে সেখানে মধ্যকষন শক্তি অনেক কম ছিল যেখানে মানুষ চলাফেরা করা অনেক সহজ ছিল, কোন ভারি বস্তু সহজেই বহন করতে পারতো। পৃথিবীতে যেসকল পশুপাখি রয়েছে, তাদের দেহের ভর অনুযায়ী পৃথিবীর গ্র্যাভিটি তাদের জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে মানুষের দেহের যে হাড় রয়েছে সেটা পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণীদের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে থাকে। এ মানুষের কোমর ব্যথা হয়।
দ্বিতীয় কারণ,
মানুষের দেহের মধ্যে যত রহস্য লুকিয়ে আছে সেটা সচরাচর অন্য কোন প্রাণী দেহের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। ইলিস সিলভার উল্লেখ করেন যে, "আপনি আমাকে পৃথিবীতে এমন একজন মানুষ দেখান যার শরীরে কোন প্রকার রোগ ব্যাধি নেই। যদি আপনি দেখাতে পারেন তাহলে আমি আমার এই দাবী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবো। অন্যদিকে দুনিয়াতে বসবাসকৃত যত প্রাণী রয়েছে তাদের দেহে কোন প্রকার রোগ বালাই নেই। কারণ পৃথিবীর পরিবেশ তাদের দেহের সম্পূর্ণ অনুরূপ। যার কারণে তারা কোন প্রকার রোগ বালাই এর শিকার হয় না।
তৃতীয় কারন,
পৃথিবীতে কোন মানুষ বেশিক্ষণ সময় ধরে রোদে বসে থাকতে পারে না। বেশিক্ষণ অবস্থান করার কারণে মানুষের মাথা ঘোরা শুরু হয়। সেই সাথে অনেকে সান-স্ট্রোকের শিকার হয়। অন্যদিকে পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণীদের মধ্যে এটা দেখা যায় না। বরং তারা লাগাতার অবস্থান করার কারণে তাদের দেহে কোন প্রকার ক্ষতি হয়না। সেই সাথে তারা কোন প্রকার অসুস্থতার সম্মুখীন হয় না।
চতুর্থ কারণ,
অনেক সময় মানুষ এটা অনুভব করে যে, তারা এই পৃথিবীর জন্য নয়। এই কারণে মানুষ যে উদাসীনতার সম্মুখীন হয় তা সাধারণত প্রবাসে থাকাকালীন কোন ব্যক্তি হয়ে থাকে।
পঞ্চম কারণ,
জমিনে অবস্থানকারী সমস্ত প্রাণীর জন্ম টেম্পারেচার অবস্থা অনুযায়ী হয়ে থাকে। অন্যদিকে মানুষের শরীরে এমনটা হয় না। যার কারণে তারা বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ সম্মুখীন হয়। কারণ মানুষের শরীরে দেহের গঠন এই পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যজনক এবং বিস্ময়কর।
তিনি তাতে উল্লেখ করেন যে,
মানুষের সৃষ্টি যেখানে হয়েছিল সেখানে কোন প্রকার খারাপ জিনিসের অস্তিত্ব ছিল না। তাদেরকে যে জগতে সৃষ্টি করা হয়েছিল সেই জগতের অনুরূপ ভাবে তাদের দেহকে তৈরি করা হয়েছিল। যার কারণে তারা কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতো না। এরা এতটাই নাজুক মেজাজের হয়ে থাকে যারা পৃথিবীতে এসে সেই অনুপাতে বসবাস করার চিন্তা-ভাবনা করতে থাকে। সেই জগতে তারা অনেকটা আরামপ্রিয় ছিল। সেখান থেকে পৃথিবীতে স্থানান্তরিত হওয়ার পর পৃথিবীতে তারা কিভাবে আরাম আয়েশ করতে পারে তার চেষ্টায় তারা বিভোর হয়ে থাকে।
যদিও একজন বিজ্ঞানী এই কথাগুলো এখন জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন। কিন্তু চৌদ্দশ' বছর পূর্বে আল্লাহতালা সুরা বাকারার 37 এবং 38 নম্বর আয়াতে অনেক আগেই এ কথাগুলো অনেক সুন্দর ভাবে উল্লেখ করে দিয়েছেন।
এটা হচ্ছে সেই আদম আলাই সালাম এর ঘটনা যার ঘটনা আমরা অনেক সুন্দর ভাবে ছোটবেলায় পড়ে এসেছি। বন্ধুরা মানুষের সৃষ্টি রহস্য অনেকদিন হয়েছে। কখনো বিজ্ঞান সমাজ এর সৃষ্টিকে বানরের সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন। আর কখনো এই সৃষ্টিকে মাছের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এর সম্পূর্ণ উল্টো আর বর্তমানের বিজ্ঞান সমাজ বিষয়টি আজ অনেক সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে যেটা অনেক আগেই আমাদের মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর পবিত্র কিতাবে মানুষকে বারবার এই কথাটাই বলেছেন যে তোমরা এই পৃথিবীর বাসিন্দা নাও। তোমাদের এই পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে পরীক্ষা করার জন্য আর পরবর্তীতে আখিরাতে তোমাদের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এক হাদীসে উল্লেখ করেন, দুনিয়া হচ্ছে মুমিনদের জন্য জেলখানা আর কাফেরদের জন্য জান্নাত।
Writer : কলম সৈনিক
Publisher: Ilm Media - ইলম মিডিয়া
[বি.দ্র: লেখাগুলো যত পারেন মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন যেন প্রত্যেকটি মানুষ বুঝতে পারে কেন আমরা মুসলিম, কেন আমাদের ধর্মই প্রকৃত ধর্ম!]
আল-বিদাহ্
Reference:
Human are not from Earth Book
Link : https://www.ilmmedia.org/2021/10/download-human-are-not-from-earth-pdf.html