আসসালামুয়ালাইকুম!
এই পর্বে আমরা আলোচনা করব কিভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই ডলারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিশ্বকে নিজেদের ইচ্ছামত নাচাচ্ছে। এর জন্য DW Documentary এর একটি প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হল–
বর্তমান সময়ের মতো এতো বিপুল অর্থ পৃথিবীতে আর কখনোই ছিলোনা। অর্থ কখনোই এতো সস্তা ছিলোনা। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রমাগতভাবে পৃথিবীতে অর্থ পাম্প করেই যাচ্ছে। আমরা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার এবং ইউরোর দ্বারা প্লাবিত। এটা এভাবে চিরকাল যেতে পারবে না। এটা একটা টিকিং টাইম বোম। সস্তা অর্থের খোঁজ পাওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য এটা এতোটা সহজ যা কখনোই ছিলোনা। বিশাল অর্থের ঋণ এখন বাস্তবেই বিনামূল্যে মিলছে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে অন্যকে ধার দিয়ে অর্থ কামাচ্ছে। তারা আবার এটাকে ব্যবহার করে অন্যকে ধার দিচ্ছে। এটি একটি তুষারগোলক সিস্টেম যা ধনীদেরকে আরো ধনী করছে। অন্যদিকে সঞ্চয়কারীরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার হারাচ্ছে প্রতি বছর। যদি আপনি ব্যাংকে একটি ফিক্স ডিপজিট খুলে থাকেন তবে এটা অনেকটা টাকা পুড়িয়ে ফেলার মতোই। প্রশ্ন হচ্ছে কোথায় যাচ্ছে এই সকল অর্থ? সরকারি বন্ড ক্রয় করে ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউরোপের মার্কেটে অতিরিক্ত ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার পাম্প করেছে। অন্যথায় এই সিস্টেমটি ধসে পড়তে পারে। এই সকল কিছুর খেসারত হচ্ছে টাকার বন্যা। এই টাকাকে কোথাও তো যেতে হবে। অর্থাৎ, শেয়ার এবং আবাসন খাত যার মূল্য বেড়েই চলছে। ফলাফল হচ্ছে বিপুল পরিমান সম্পদ একদিকে জমা হচ্ছে।
বিল গেইটসের কোম্পানিগুলোর সকল শেয়ারের মূল্য ৬৫ বিলিয়ন ইউরো (২০১৭) আর পৃথিবীর সকল মাদ্রিদ টাকার পরিমান এর ১০০ গুণেরও কম। ৫ ট্রিলিয়ন ইউরো পৃথিবীতে প্রতি বছর সকল পণ্য ও সেবা যা তৈরী করা হয় তার মূল্য। ৭৫ ট্রিলিয়ন ইউরো পৃথিবীর সকল ঋণ এর থেকে অনেক বেশি। এটাই পৃথিবীর প্রকৃত অর্থনীতি। রাষ্ট্র, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন ব্যক্তি সবার ঋণ আছে। এটি এমন পৃথিবী যেখানে সবাই ঋণ গ্রস্ত। ৭০৫ ট্রিলিয়ন হচ্ছে সকল ডেরিভিটিভস এর মূল্য।
ভবিষ্যতের উপর অনুমানভিত্তিক আর্থিক বাজি প্রকৃত পণ্যের সাথে এই সকল অর্থের কোন সম্পর্কই নেই। কি হয় যখন পৃথিবী বিপুল পরিমান অর্থ তৈরী করা হয়!
অর্থনীতিবিদ মেক্স ওটার বলেন,
"সস্তা অর্থের এই প্লাবন শুধু ব্যাংক গুলোর পকেট ভারী করছে না। আর কি? এটি সস্তা অর্থ অর্থনীতিকে বিপন্ন করে এবং ঋণের পরিমান বৃদ্ধি করে। তিনি বলেন - যারা মনে করে ২০০৮ এর আর্থিক সংকট ঠিক হয়ে যাচ্ছে, সবকিছু এখন ভালো চলছে, তারা অনেক ভুল ভাবছেন। অর্থের এই বিপুল প্রবাহ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর গতি ধীর তবে একদিন এই বাঁধ ভেংঙ্গে যাবে, তখন আমরা মহাসংকটে পরবো। সবচেয়ে বড় বিপদ হচ্ছে এই সস্তা টাকার প্লাবন আমাদের সমাজকে বিভক্ত করে দিবে। তিনি বলেন- এই সিস্টেম অর্থ নিচ থেকে উপরে নিয়ে যায়। একটি বিশাল পুনঃবিতরণ যন্ত্র। অনেক অর্থনীতিবিদরা স্বল্প সুদের হার চান। যাতে করে রাষ্ট্র প্রয়োজনে আরো ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এর অর্থ ধনীরাও এখন বেশী বেশী ঋণ নিতে পারবে। প্রায়শই কোন দায়বদ্ধতা ছাড়াই যদি তারা সেই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়। কেউ অত্যাধিক ধনী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র তার শেয়ার সমপরিমাণ মূল্য পরিশোধে দায়বদ্ধ থাকে, তার বাকি সম্পদ থেকে নয়। এটা নির্মম অন্যায় মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি নির্মাণ ঋনের সাথে তুলনা করলে। সস্তা টাকার এই বন্যা শুধু রাষ্ট্র এবং ব্যাংক গুলোকে রক্ষা করছে না, এটা ধনীদেরকেও সুবিধা করে দেয়। যারা এই সস্তা টাকা ব্যবহার করে শেয়ার, কোম্পানি এবং আবাসন ক্রয় করে, ফলে এগুলোর মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ আর্থিক বিনিয়োগকারীরা মূল্য হারাচ্ছে। মধ্যবিত্তদের আছে জমা এবং বীমা নীতি আর স্বল্প সুদের হার পৃথিবীতে এই সাধারণ আর্থিক বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্থ। দরিদ্র নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় কারণ সস্তা টাকার কারণে আবাসনের দাম বৃদ্ধি পায় ফলে এর ভাড়াও বৃদ্ধি পায়। ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুলো পৃথিবীতে সস্তা অর্থের বন্যা বয়িয়ে দিচ্ছে। এটা কোন নিরাময় নয় এটা শুধুই ব্যাথার উপশম মাত্র। দীর্ঘ সময়ে এর পরিনাম ভয়ংকর। এই পুরো সেটাপ এমন এক ব্যবস্থা যা নিজেকে সাময়িকভাবে রক্ষা করছে। এই সস্তা টাকার প্লাবন ধনী এবং গরিবের ব্যবধানকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।"
DW Documentary এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ দেখতে নিচের লিংকে যান।
https://youtu.be/t6m49vNjEGs
আর এভাবেই বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং পৃথিবীর অন্যান্য ধনী দেশগুলো আরও ধনী হচ্ছে আর গরিবেরা গরিব।
ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পর্বে এরপর থেকে বলা হবে।
[বি.দ্র: লেখাগুলো যত পারেন মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন। কিভাবে আমাদের পশ্চিমারা কোনঠাসা করে রেখেছে সকলকে জানতে হবে।মুসলমানদের এখন সোচ্চার হওয়ার সময়।]
ফিআমানিল্লাহ!
