আসসালামুয়ালাইকুম!
১৯৬৭ সালের ৫ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ইসরায়েল এবং মিশর (এসময় ইউনাইটেড আরব রিপাবলিক নামে পরিচিত ছিল), জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘটিত হয়। একে জুন যুদ্ধ, ১৯৬৭ আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধ বা তৃতীয় আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধও বলা হয়। সিনাই উপদ্বীপে ইসরায়েলি সীমান্তে মিশরের সেনা সমাবেশের পর ৫ জুন মিশরীয় বিমানক্ষেত্রে ইসরায়েলের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে জেতা একা ইসরাইল এর পক্ষে সম্ভব না এটা ইহুদিরা ও আরবরা উভয়েই জানত। কিন্তু আরবদের সবচেয়ে বড় হুমকি ছিল যুক্তরাষ্ট্র যারা শুরু থেকেই ইসরাইলের সাথে ছিল। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেকাতে সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েত ঘোষণা করে, "যদি যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে ইসরাইলকে সাহায্য করে তবে তারা বিশ্বে তেল রপ্তানি করা বন্ধ করে দেবে।"
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এরপরও ইসরাইলকে সাহায্য করে এবং ইসরাইল যুদ্ধে জিতেও যায়। ফলে সত্যিই আরবরা তেল রপ্তানি করা বন্ধ করে দেয়। যেহেতু পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশই তেলের উপর নির্ভরশীল। তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তেলের দাম অত্যাধিক হারে বেড়ে যায়। তেলের দাম এত বেড়ে যায় যা, আরবরাও কল্পনা করতে পারে নি। এরপরই দেখা যায় হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে তাদের দূত প্রেরণ করে। আর সেখানে যা চুক্তি হয় তা ছিল মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে লজ্জার ও ঘৃণ্য ঘটনা। এই চুক্তির মাধ্যমেই আজ যুক্তরাষ্ট্র এত শক্তিশালী।
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সৌদির তৎকালীন কিং ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ আল সৌদকে প্রস্তাব দেন, "আমরা আপনাকে ও আপনার রাজপরিবারের ক্ষমতায় অটুট রাখব এবং যেকোন কঠিন পরিস্থিতিতে আপনার রাজপরিবারকে সবরকমের বিপদ থেকে রক্ষা করব। কিন্তু এর পরিবর্তে আপনারা সোনা নয় বরং, কেবল ডলারের বিনিময়ে তেল রপ্তানি করবেন।" আশ্চর্য হলেও সত্য যে আল সৌদ কেবল নিজের পরিবারের সার্থ রক্ষা করতে সমগ্র মুসলিম জাহানকে বিক্রি করে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়।
আপনারা কি জানেন, সৌদির এই রাজ পরিবার সৌদি আরবে কোন শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করে না কেবল এই ভয়ে যে তারা বিদ্রহ করে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে। চিন্তা করতে পারেন! একটি দেশের পরিবার কতটা স্বার্থপর ও বেইমান হলে নিজের জন্য দেশকেও বিপদে ফেলতে কার্পন্য করে না। এখন যদি সৌদিতে ভারা করা আমেরিকার সৈন্যরা সৌদি আরব দখল করে তখন কি হবে ভাবতে পারেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তা করবে না। কারন যেখানে সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠছে সেখানে আঙ্গুল বাঁকানোর তো প্রশ্নই আসে না। আল্লাহ এই সকল বেইমান জালিমদের উপযুক্ত শাস্তি দিক। (পারলে কমেন্টে আমিন বলুন 😁😁)
তো মূল বিষয়ে ফিরে যাই। এর পর থেকেই পুরো বিশ্ব ডলার নির্ভরশীল হয়ে পরে। কারন তেল তো সবারই প্রয়জন। এরপর আমেরিকা পুনরায় তাদের ধান্দা শুরু করে পাহাড় সমপরিমাণ কাগজের ডলার নোট ছাপানো শুরু করে এবং অন্যান্য দেশ তা কিনতে শুরু করে। বুঝতে পারছেন? কিভাবে তারা কোন খরচ ছারাই কেবল একটি চুক্তির মাধ্যমে তাদের মূল্যহীন কাগজের নোটকে মূল্যবান করে তোলে।
ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পর্বে এরপর থেকে বলা হবে।
[বি.দ্র: লেখাগুলো যত পারেন মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন। কিভাবে আমাদের পশ্চিমারা কোনঠাসা করে রেখেছে সকলকে জানতে হবে।মুসলমানদের এখন সোচ্চার হওয়ার সময়।]
ফিআমানিল্লাহ!

