পেপার কারেন্সি (একটি সূক্ষ্ম পরিকল্পনা) | পর্ব - ৪

 পেপার কারেন্সি (একটি সূক্ষ্ম পরিকল্পনা) | পর্ব - ৪


আসসালামুয়ালাইকুম!

আজকে আপনি যদি কোন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাপারে খোঁজ নেন আপনি জানতে পারবেন সেখানে শুধু রিজার্ভ করা আছে কারি-কারি কাগজের ডলার। যার পিছনে রয়েছে শুধুই বাতাস। আজকে যদি কোন ভাবে ডলারের পতন ঘটে তখন, জমা করে রাখা এই কাগজের নোটগুলোর কোন মূল্য থাকবে?

ভাববেন না যে, বর্তমান সময়ে সম্পূর্ণ বিশ্ব ডলারের উপর নির্ভরশীল বলে ডলারের পতন কখনোই হবে না। হ্যা, সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে চলতে থাকলে ডলারের পতন ঘটবে না। শুধু মাত্র ধনীদের হাতে অর্থ পুঞ্জিভূত হতে থাকবে। ডলারের পতন একমাত্র তখনই সম্ভব হবে যখন এই পৃথিবীতে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ ঘটবে। আর সেটি ঘটতে খুব বেশি দেরি নেই। আমাদের মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এর একটি হাদিস নিয়ে আলোচনা করলেই এই বিষয়টি বুঝতে পারবেন।

ইউফ্রেটিস বা ফুরাত নদী


আমি সেই ফুরাদ নদীকে নিয়ে বলা হাদিসের কথাই বলছি। কিন্তু এটি বুঝতে আপনার প্রথমে কিছু বিষয় জানতে হবে।

ইউফ্রেটিস নদী, যা নাহার আল ফুরাত নামেও পরিচিত, পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘতম এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলির মধ্যে একটি। নদীটিও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি কিয়ামার চিহ্ন ধারণ করে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর মানবতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন।


কিয়ামার ছোট্ট নিদর্শনগুলির মধ্যে একটি হল ইউফ্রেটিস নদী শুকিয়ে যাবে এবং একটি সোনার পাহাড় বা খনি বের হবে। যা দখল করার জন্য একটি ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হবে। কিন্তু মূল ঘটনা হচ্ছে নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার পথে।

ফোরাত নদী (Euphrates river) তুরস্ক থেকে সিরিয়ার উপর দিয়ে ইরাকে গিয়ে শেষ হয়েছে।এর দৈর্ঘ্য ২৭০০ কিঃমিঃ এবং এর ৯০%পানির উৎস হল তুরস্কের মুরাত নদী (Murat river) এবং কারাসু নদী ( karasu river) । তুরস্কের বিরেচিক ,সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশ, দেইর আজ জুর, মাদায়েন, আবু কামাল ইরাকের আল কায়েম, হাদিথা, রামাদি, ফালুজা, নাজাফ, নাসিরিয়া, কুফা শহর গুলো মূলত এই ফোরাত নদীর উপরেই নির্ভরশীল। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরাক সরকার এখন পর্যন্ত ১২ টি ছোট বড় বাধ নির্মাণ করার কারনে ১৯৯৯ সালের পরে ফোরাত নদীর পানি আশংকাজনক হারে কমতে শুরু করেছে।

ইউফ্রেটিস বা ফুরাত নদী নতুন


বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে খুব বেশি দূরে নয়। কারণ, গ্লোবাল ওয়াটার ফোরামের গবেষণায় দেখা গেছে, ইউফ্রেটিস নদীর পানি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত তিনি বলেন, চতূর্থ ফিৎনা হচ্ছে, অন্ধকার অন্ধত্বপূর্ন ফিৎনা। যা সমুদ্রের ঢেউয়ের ন্যায় উত্তাল হয়ে উঠবে, আরব অনারবের কোনো ঘর বাকি থাকবেনা, যেখানে উক্ত ফিৎনা প্রবেশ করবেনা? এই ফিতনা দ্বারা মুসলমানেরা লাঞ্ছিত অপদস্ত হতে থাকবে। ফিৎনাটি শাম দেশে (সিরিয়ায়) চক্কর দিতে থাকলেও রাত্রিযাপন করবে ইরাকে। তার হাত পা দ্বারা আরব ভুখন্ডের ভিতরে বিচরন করতে থাকবে। উক্ত ফিৎনা এ উম্মতের সাথে চামড়ার সাথে চামড়া মিশ্রিত হওয়ার ন্যায় মিশে যাবে, তখন বালা মুসিবত এত ব্যাপক ও মারাত্নক আকার ধারন করবে যা দ্বারা মানুষ ভালো খারাপ নির্ণয় করতে পারবেনা। ঐ মুহুর্তে কেউ উক্ত ফিৎনা থামানোর সাহস ও রাখবেনা। একদিকে একটু শান্তির সুবাতাস বইলেও অন্যদিকে ফিৎনা তীব্র আকার ধারন করবে। সকালবেলা কেউ মুসলমান থাকলেও সন্ধা হতে হতে সে কাফের হয়ে যাবে। উক্ত ফিৎনা থেকে কেউ বাঁচতে পারবেনা। কিন্তু শুধু ঐ লোক বাঁচতে পারে, যে সমুদ্রে ডুবন্ত ব্যক্তির ন্যায় করুন সুরে আকুতি জানাতে থাকে। সেটা প্রায় ১২ বৎসর পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে এবং এক পর্যায়ে সকলের কাছে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ইতোমধ্যে ফুরাত নদীতে স্বর্নের একটি ব্রিজ (পাহাড়) প্রকাশ পাবে। যা দখল করার জন্য সকলে যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে এবং প্রতি নয় জনের সাতজন মারা পড়বে।

ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পর্বে এর পর থেকে বলা হবে।


[বি.দ্র: লেখাগুলো যত পারেন মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন। কিভাবে আমাদের পশ্চিমারা কোনঠাসা করে রেখেছে সকলকে জানতে হবে।মুসলমানদের এখন সোচ্চার হওয়ার সময়।]

ফিআমানিল্লাহ!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন