ইহুদীদের অদৃশ্য রাষ্ট্র। জায়নিজমের ভিতর-বাহির। পর্ব-০২
আজ আমরা বিশ্বের প্রতিটা দেশের দিকে তাকালে দেখতে পাই নানান রকম তথাকথিত আধুনিকতা নামের অনাচারের ফাঁদ । যে ফাঁদের গভীর গর্ভে প্রতিদিনই আমরা কেউ না কেউ হুমড়ি খেয়ে পড়ছি।
এ মায়াজালের ফাঁদ কি এমনি এমনি তৈরী হয়েছে❓ নাকি এর পিছনে আছে কোনো চৌকসের বিশাল বিস্তৃত ষড়যন্ত্র❓
বিশ্বের এরকম অস্বাভাবিক ঘটনা শুনলেই অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী বিশ্লেষকরা সবার আগেই আঙুল তুলেন এক চৌকশ অভিশপ্ত জাতির দিকে।
যারা একসময় পৃথিবীর আনাচকানাচে জাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতো। যারা তাদের আচরণের ও কুটকৌশলের দোষে প্রতিটা স্থানে নির্যাতনের ও নির্বাসনের শিকার হতো। কিন্তু বর্তমানে তাদের স্থান অনেক উপরে।
সে নিকৃষ্ট অভিশপ্ত জাতি হলো ইহুদী সম্প্রদায় ।
যারা বর্তমানে পৃথিবীতে ছড়াচ্ছে নানা অনাচার। সুদ,ঘুষ,যিনা, নারী রেভোলেশন এবং নানা নিকৃষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পৃথিবীকে এক টুকরো জাহান্নামে পরিণত করেছে।
কিভাবে করছে তারা এসব❓
এখানে তাদের ইতিহাসের চমকপ্রদ বিষয় হলো "আল-জুদান"।
হেনরি ফোর্ড তার বই সিক্রেটস্ অব জায়োনিজম এ অসাধারনভাবে এটার বিষয়ে উপস্থাপন করেছেন।
আল জুদান হলো ইহুদীদের তৈরী এক রাষ্ট্র। ধারণা করা হয় Judah থেকে Judan শব্দের উদ্ভব ঘটেছে। জেরুজালেম থেকে নির্বাসিত হয়ে নিজের ঐক্য ও ঐতিহ্য ধরে রাখতেই তারা আল জুদান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করে। অনেকে ভাবতে পারেন এর ভূখণ্ড কতটুকু বা কোনস্থানে❓টুইস্টটা এখানেই, এটি ছিলো অদৃশ্য একটি রাষ্ট্র । এর নিদিষ্ট কোনো ভূখণ্ড ছিলোনা। ইহুদীদের নানা গুপ্তসংগঠন ছিলো। আর এই সংগঠনগুলোর সদস্যরা পৃথিবীর যে প্রান্ত অবধি ছড়িয়েছিল, আল জুদানের সীমানা ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
ইহুদীরা "কাহাল" নামের এক নতুন সমাজব্যবস্থার জন্ম দেয়, যা প্রত্যেক ইহুদীর জন্য মানা বাধ্যতামূলক ছিলো। আধুনিক সমাজব্যবস্থার মতো এরও একটি "সেনহাড্রিন" নামক পার্লামেন্ট ছিলো। পার্লামেন্টের অধিবেশনে অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করতো। বিশেষ করে রাবাইগন(ইহুদী ধর্মীয় পন্ডিত)। অধিবেশনে চলতি বছরের কাজের গুণানুসারে পরবর্তীতে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ ও বাজেট প্রনয়ণ করা হতো। পাশাপাশি এটা ছিলো ধর্মীয় আদালতও।
আল জুদানের সদরদপ্তর ছিলো প্যারিসে। এছাড়াও ওয়ারসো,হ্যানয়,নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে তাদের সদর দপ্তর পরিবর্তন ও অধিবেশন বসতো। তাদের প্রধান ও প্রথম শর্ত ছিলো গোপনীয়তা বজায় রাখা।সাধারণ মানুষ যাতে টের না পায়। পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এর শাখা সংগঠনগুলো। গুপ্তচরের ন্যায় ছড়িয়ে যায় পুরো পৃথিবীতে। ইসরায়েল পুনরুদ্ধার ও জেরুজালেমকে রাজধানী করার হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করাই ছিলো তাদের সকল কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।
আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।হয়তো এখনও তারা এরকমভাবেই পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে রয়েছে।
