জায়োনিজমের ভিতর-বাহির | পর্ব-০১

 বিশ্বযুদ্ধে ইহুদীদের ষড়যন্ত্র।জায়োনিজমের ভিতর-বাহির। পর্ব-০১



প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:

ইসলামি শক্তি পতনের মাধ্যমে জেরুজালেম আয়ত্ব করে স্থায়ী বসতি স্থাপন করার জন্য অভিশপ্ত ইহুদীজাতিকতৃক ষড়যন্ত্রে জর্জরিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১৯১৪-১৬ পযর্ন্ত কেন্দ্রীয় শক্তি উসমানীয় সম্রাজ‍্য-জার্মান-হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়া বিনা দ্বিধায় মিত্রশক্তি রাশিয়া-ব্রিটেন-ফ্রান্স-সাইবেরিয়ানদের তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দিচ্ছিলো। 


তবে এখানে ব্রিটেন ছাড়া অন‍্য মিত্রশক্তিগুলো নিজেদের দেশের সমস্যা মেটাতে বেশি মনোযোগী ছিলো। তাই বলা যায় ব্রিটেনে প্রায় একাই লড়েছিলো। কেন্দ্রীয় শক্তিগুলো ব্রিটেনকে আলোচনায় আসার প্রস্তাব জানায়। ব্রিটেনও শান্তি আলোচনা করতে প্রস্তুতি নিতে থাকে। কিন্তু জার্মানে বসবাসরত ইহুদিরা ব্রিটেনকে আশস্ত করে তারা চাইলেই জিততে পারে, শান্তি আলোচনা করার দরকার নাই। 


এর কারণ ছিলো ব্রিটেন হার মানলে তারা যে জন‍্য বিশ্বযুদ্ধের নীলনকশা সূচনা করেছে সেই জেরুজালমে বসতি করাই তাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। সেজন্য তারা ব্রিটেনের কাছে তাদের তৈরী আমেরিকাকে যুদ্ধে আনার প্রস্তাব দেয়। তবে তাদের মহাপরিকল্পার শর্তটাও সাথে জুড়ে দেয় যে, ব্রিটেন বিজয়ী হলে ফিলিস্তিনের চাবি তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।আর উপায়ন্তর না দেখে ব্রিটেন রাজি হয়ে যায়। কয়েকদিনের ব‍্যবধানে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। পরবর্তী ছয় মাসের মাথায় কেন্দ্রীয় শক্তি পরাজিত হয়। আর ১৯১৭-১৯ সালে বেলফোর ডিক্লারেশনের মাধ‍্যমে ইহুদীরা তাদের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তাদের নীলনকশা সফল করে। তখন কেন্দ্রীয় শক্তিরা বুঝতে পারে তারা আসলে বিশ্বযুদ্ধ নামক ফাঁদে পা দিয়েছে।




 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এলডফ হিটলার হিটলারের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ইহুদীরা এমন সব রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র করেছিল যে হিটলার যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো উপায় খুজে পায়নি। ইহুদিরা অনুজীবের মতো জার্মানির রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে। এর ফলে ১৯২৩ সালে বিশাল অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় জার্মান।


হিটলারের হলোকাস্ট(¹)যেমন সত‍্য , তেমনি হিটলারের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এটাও একইমানের গোপনীয় সত‍্য। 




(১৯৩৪ সালে জার্মান ইহুদি লেখক Emil Ludwig Cohn জার্মান পত্রিকা Les Annales এর একটি প্রবন্ধে বলেন -

"হিটলার কোনো যুদ্ধে যাবেনা। এমনকি সে কোনো যুদ্ধে জড়াতেও চায়না। কিন্তু আমরা তার উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেবো। হয়তো এই বছর, নয় পরের কোনো বছর।" 




এ প্রসঙ্গে হিটলার My Political testament -এ বলেন -


"এটা পুরোপুরি অসত‍্য যে, আমি বা জার্মানির কেউ ১৯৩৯ সালে যুদ্ধে জড়াতে চেয়েছি। এর নেপথ্যে ছিলো আন্তর্জাতিক ইহুদি সংগঠনগুলোর ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা। তারাই আমাদের যুদ্ধ শুরু করতে বাধ‍্য করেছে। ধ্বংসাত্মক প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আরো একটি যুদ্ধের কথা আমি কখনো কল্পণাও করিনি, হোক তা আমেরিকার বা ইংলেন্ডের বিরুদ্ধে।")(²)




আর সামনেরটা আমরা দেখতে পাবো ইংশাল্লাহ। তারা যেভাবে পতুিনকে ক্ষেপাচ্ছে। তারা চাইছে রাশিয়া আগে পারমানু অস্ত্র ব‍্যবহার করুক। যেমনটা আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে আরবরা প্রথম হামলা চালালে ইসরায়েলের সাথে যোগ দেয় ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো। তারা এই ইস‍্যু ধরে যুদ্ধ শুরু করবে। তবে এখন বিশ্বযুদ্ধ ঘটাতে ইসরায়েলের অনেক কাঠখড় পুড়াতে হবে। কারণ এখনকার ভূরাজনীতি অনেকটা জটিল। তবে ইহুদিরা হাল ছাড়বেনা।কারণ তাদের লক্ষ্য এখন গ্রেটার ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্যই আবার তারা পৃথিবীর আনাচকানাচে সব ইহুদিের জেরুজালেমে নিয়ে আসছে। ইউক্রেন তারা ইহুদি শরণার্থীদের ইসরায়েলে নিচ্ছে। একবার ভাবেনতো তারা এই শরণার্থীদের থাকার জায়গা কি ইসরায়েলের দখলে যতটা ভূখণ্ড আছে সেখান থেকে দিবে ❓ অবশ্যই না। 

তারা এখন আবার অবৈধ দখলদারের নামে আরও ভূমি দখল করবে ফিলিস্তিনের।


টিকা:-

(¹)হলোকাস্ট- হিটলারের নাৎসীবাহিনীকতৃক ৬০ লাখ ইহুদি হত‍্যাকে হলোকাস্ট বলে।

(²)সিক্রেটস অব জায়োনিজম



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন