যীশু কি ইশ্বর? | খ্রিস্টান মিশনারী ও এক যুবক | করআন ও বাইবেল


 

চট্টগ্রাম।  পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও মনোরম পরিবেশ দেখলে প্রাণ জুড়ে যায়।  আল্লাহর অনিন্দ্য সুন্দর এ সৃষ্টি, মনোমুগ্ধকর এ পরিবেশ দেখলে একটি আয়াত মনে পড়ে---------

"আমি বিস্তৃত  করেছি ভূমিকে ও তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা এবং উৎপন্ন করেছি নয়নাভিরাম বিবিধ উদ্ভিদরাজি।  এটি আল্লাহর অনুরাগী বান্দাদের জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরুপ"। [1]


প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য উদাহরণ যেন এ পর্বতঘেরা অঞ্চল।  এখানে আসার মূল কারণ,  এক খ্রিষ্টান মিশনারী  উদ্ভুদ হয়েছে,  যিনি এখানের সহজ সরল মানুষদের বিভ্রান্ত করছেন তার কৌশল দ্বারা।  এ সংবাদ পেয়েছি আমাদের বন্ধু সজীবের কাছ থেকে।  ঢাকাতে এই মিশনারীর কয়েকদিনের সংস্পর্শে বিভ্রান্ত ও দিকভ্রষ্ট হয়ে সজীব হামজাকে বলল------

সজীবঃ খ্রিষ্ট ধর্মই সত্যি ধর্ম।  আর যীশুই ইশ্বর।

হামজাঃ কি বলছিস এসব?

সজীবঃ হ্যা, ঠিকই বলছি।  এক মিশনারী আমাকে প্রমাণ করে দেখিয়েছে, যীশুই ইশ্বর।  তোরাও বিশ্বাস করে নে।

হামজাঃ কোথায় সে মিশনারী?

সজীবঃ সে তো ঢাকায় এক কাজে এসেছিলো।  তবে এখন চট্রগ্রামের এক গ্রামে খ্রিষ্ট ধর্মই যে সত্য সেই দাওয়ার প্রচার করছে।

সজীব বেকুবটার কথায় আমার প্রচন্ড রাগ উঠছিলো। কত সহজে অন্যের কথায় ভড়কে যায়।

হামজা বললোঃ ঠিক আছে।  তোর ভুল সেই মিশনারীর সামনেই ভাঙাবো।

আমি বললাম--- তাহলে কি আমরা চট্টগ্রাম যাচ্ছি?

হামজাঃ হ্যা! কাল ভোরে রওনা হবো। সজীব তোর কোনো সমস্যা নেই তো?

সজিবঃ উহু, আমার কোনো সমস্যা নেই৷ তবে এবার তুই ভুল প্রমাণ হবি।

হামজাঃ সময় হলে দেখা তা যাবে।

সেই মিশনারীকে জব্দ করে সজীবের ভুল ভাঙানোর জন্যই চট্টগ্রাম অঞ্চলে আসা। অনেক খুঁজে সেই মিশনারীকে পাওয়া গেলো। সজীব মিশনারীকে পেয়ে আর মিশনারী তার বোকা বানানো সজীবকে পেয়ে খুশিতে গদগদ। আমাকে আর হামজাকে  দেখে মিশনারীর ঠিক কি অনুভূতি তা বুঝতে পারলাম না।

সজীবঃ ( আমাকে এবং হামজাকে দেখিয়ে)  এ দুজন আমার বন্ধু।

মিশনারীঃ তোমাদের স্বাগত।

আমি আর হামজা মিশনারীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলাম।

সজীবঃ যীশুই যে ইশ্বর তা ওরা বিশ্বাস করতে চায় না।  তাই আপনার কাছে নিয়ে আসছি।

মিশনারীঃ খুব ভালো করেছো।  আমি যুক্তি-দলিল দিয়ে উপস্থাপন করলেই ওরা বিশ্বাস করবে।

ধর্মীয় ব্যাপারে আমি অতটা পটু নই।  এ সম্পর্কে হামজা ভালো জ্ঞান রাখে।  ওর কাছ থেকেই আমি প্রতিনিয়তই কিছু না কিছু নুতুন জ্ঞান ধারণা লাভ করছি। হামজা ততক্ষণে মিশনারীর উদ্দেশ্যে বলল----

হামজাঃ যীশুকে আমরা আল্লাহর প্রেরিত পয়গম্বর হিসেবে মানি।  তবে তিনি ইশ্বর নন।  এমনি বাইবেলের কোথাও এমন কথা নেই যেখানে যীশু বলেছেন,  আমি নিজেই ইশ্বর।

মিশনারীঃ যদি আমি তোমাকে দেখাতে পারি তবে কি তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে যে, যীশুই ইশ্বর?

হামজাঃ অবশ্যই।

আমি এবং সজীব ভালো শ্রোতা হিসেবে তাদের কথোপকথন মনোযোগ সহকারে শুনছি।

মিশনারীঃ যিশু যোহন (John) এ বলেছেন ---

" I tell you the truth, " Jesus answered, "before Abraham was bron, I am" [2]
[ আমি তোমাদের সত্যি বলছি।  আব্রাহামের (ইব্রাহিম আঃ)  জন্মের আগেই আমি আছি।] [3]


যীশু নিজেই বলেছেন তিনি আব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আছেন।  এর মানে পৃথিবীতে আসার আগেই তার অস্তিত্ব ছিলো।  আর এই ক্ষমতা একমাত্র ইশ্বরের।  ইশ্বর ছাড়া এ ক্ষমতা আর কার থাকতে পারে? এ থেকেই প্রমাণ হয় যীশুই ইশ্বর।

সজীব জয়ীর মতো উৎফুল্ল হয়ে উঠলো।  মিশনারীর মুখে হাসির রেখা।  আমি হামজার দিকে তাকাতেই দেখলাম হামজা নিশ্চিন্ত মুখে মুচকি হাসছে।  এবার হামজা বলতে শুরু করল-----

হামজাঃ " যখন তোমার রাব্ব বানী আদমের পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের বংশধরদেরকে বের করলেন এবং তাদেরকেই তাদের উপর সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি কি তোমাদের রাব্ব (প্রভু) নই? তারা সমস্বরে উত্তর দিলঃ ‘হ্যাঁ! আমরা সাক্ষী থাকলাম।’ (এটা এ জন্য যে) যাতে তোমরা কিয়ামাত দিবসে বলতে না পার, ‘‘আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অনবহিত ছিলাম।’’[4]


এই আয়াতের তাফসীরে, এটিকে 'আলাসতু' অঙ্গীকার বলা হয় যা ألست بربكم হতে তৈরী। এই অঙ্গীকার আদম (আঃ)-এর সৃষ্টির পর তাঁর সৃষ্টজাত সকল সন্তানের নিকট হতে নেওয়া হয়েছিল। একটি সহীহ হাদীসে এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আরাফার দিনে নু'মান নামক জায়গায় মহান আল্লাহ আদম-সন্তান হতে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন। আদম (আঃ)-এর সকল সন্তানকে তার পৃষ্ঠদেশ হতে বের করলেন এবং তাদেরকে নিজের সামনে (পিঁপড়ের আকারে) ছড়িয়ে দিলেন ও তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'আমি কি তোমাদের রব (প্রভু) নই।' সকলে বলেছিল, بَلَى شَهِدنَا অবশ্যই, আমরা সকলেই আপনার রব হওয়ার সাক্ষ্য দিচ্ছি।

(মুসনাদে আহমাদ, হাকেম ২/৫৪৪, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৬২৩নং)। [5]

অর্থাৎ বোঝা যায়, এটা ছিলো রুহের জগত।  তাহলে যীশু ইশ্বর হয় কি করে? এটা তো এক স্বাভাবিক ঘটনা।

মিশনারীঃ আমি তোমার কথায় বিশ্বাস করি না। 

হামজাঃ বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি দিলে বিশ্বাস করবে তো? বাইবেলে বলা হয়েছে-------

"প্রভুর বার্তা ছিল এই রূপ: “তোমাকে আমি তোমার মাতৃগর্ভে রূপ দেবার আগেই জানতাম।  তোমার জন্মের আগে থেকেই আমি তোমাকে একটি বিশেষ কাজের জন্য নির্বাচন করে রেখেছিলাম। আমি তোমাকে জাতিসমূহের ভাব্বাদী (নবী) হিসেবে মনোনীত করেছিলাম। "[6]


সুতরাং বাইবেল বলছে যে,  পৃথিবীতে আসার আগেও ভাববাদী যিরমিয় এর অস্তিত্ব ছিলো।  তাহলে যিরমিয়কে ইশ্বর বলা হয় না কেন? যদি যিরমিয় ইশ্বর না হয়, তবে যীশু কে ইশ্বর বলে দাবি করা হয় কেনো?
এটা তো দ্বিমুখী - নীতি।

মিশনারীর মুখ চুপসে গেলো।  সজীব তার ভুল বুঝতে পেরে লজ্জিত হলো এবং তওবাহ করলো।

আমরা তিনজন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

-------------------------------------------------

[1]সূরা কাফ ; আয়াতঃ ৭-৮

[2]Jhon 8ঃ58 NIV Bible

[3]যোহন ৮ঃ৫৮; বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির অনুবাদ

[4]সূরা আ'রাফ;  আয়াতঃ ১৭২

[5]তাফসীরে বায়ান ( সূরা আ'রাফ, আয়াতঃ১৭২)

[6] [যিরমিয় (Jeremiah) ১ঃ৫]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন