বোরকা যেমন হওয়া উচিৎ | Ilm Media

বোরকা যেমন হওয়া উচিৎ | Ilm Media

 অনেক দিন যাবত দেখছি অনেকের প্রশ্ন,,,

 

*আমি পর্দা করে মানে হাত মুজা পা মুজা পরে সাথে লেহেঙ্গা, শাড়ি,লংড্রেস ইত্যাদি পরে বের হতে পারবো??  

*নন মাহরামদের সামনে কিভাবে থাকবো?? 

*আমি বিভিন্ন আউটডোর একটিভিটিতে (ক্যারাটে,আর্ট,লুডু,ইত্যাদি)তে অংশগ্রহন করতে চাই আমার স্বপ্ন এগুলো,, আমি কী পর্দা করে এইকাজে এগিয়ে যেতে পারি? ?

*পর্দা কীভাবে করে /কীভাবে শুরু করবো / পর্দার অন্তর্ভুক্ত মুল কাজ কী?? 

*কপাল ভ্রু বের করে হিজাব বাদলে পর্দা হবে??


উত্তরঃ 

পর্দা যা আমাদের জন্য ফরজ ইবাদত । যা না করা হলে অবশ্যই কবিরা গুন্নাহ অর্থ্যাৎ বড় গুন্নাহ হবে। এবং আমরা নামাজ কাজা আদায় করা যায় কিন্তু পর্দা কাজা আদায় করা যায় না। এই গুন্নাহর একমাত্র কাফফারা হচ্ছে তওবা করে পর্দায় ফিরে আসা এবং আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ ভাবে ক্ষমা চাওয়া।


আল্লাহ তা'য়ালা কুরাআনের সুরা আহযাবের ৩৩নং আয়াতে নারীদের পর্দার ব্যাপারে বলেছেন, 

" নারীরা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে " 

- নারী বলতেই সৌন্দর্য। একজন নারীর সবকিছুই সুন্দর, অসুন্দর বলার কোনো উপায় নেই। তার মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের নখ পযন্তই সৌন্দর্য বিরাজ করে। তাই পা থেকে মাথা পযন্তই ঢাকতে হবে।

অনেকে বলেন, চেহারা ঢাকা উত্তম কিন্তু ফরজ নয়। তাদের বলছি, চারটা মাজহাবেই চেহারা ঢাকার কথা এসেছে। সাহাবিগন এবং উম্মুল মুমিনীনরা আমাদের আর্দশ এমন কোনো হাদিস কুরআন বা কোনঁ কিতাব এ কোথাও লেখা নেই যে, উম্মুল মুমিনীনরা মুখ খোলা রাখতো। আর জান্নাতের সর্দারনী ফাতেমা রহআঃ

এর কোনো ব্যাহিক সৌন্দর্যের কথা ফুটে উঠেছে এমন কোনো হাদিস নেই বরং তাদের পর্দা কতোটা কঠর ছিলো, কেমন ছিলো তা হাদিসে অনেক পাওয়া গেছে।  

  

 পর্দা বিষয় কুরআনের সুরা নুরের ৩১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 

"ইমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে, তাদের যৌনাঙ্গের হিফাজত করে, যা সাধারন প্রকাশমান, তা বাদে তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের মাথার ওরনা বক্ষ দেশে ফেলে রাখে। এবং তাদের সৌন্দর্য তাদের স্বামি,পিতা,শশুর,ছেরে,ভগ্নি পুএ,স্বামীর ছেলে,নিজের ছেলে,ভাই,আপন ভাইয়ের ছেলে,স্ত্রীলোখ তাদের অধীকারভুক্ত বাদী,যৌন কামনা মুক্ত পুরুষ -বালক। যারা নারীদের সৌন্দর্য সম্পর্কে অঙ্গ,তাদের ব্যাতিত নারী রা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাম করার জন্য জোরে পদাচরনা না করে। এবং মুমিনগন তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর,তাহলে তোমরা সফলকাম হবে"।


এই আয়াতের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, 

"(মুমিন নারীরা অথ্যাৎ বিশ্বাসীগন যেন তাদের দৃষ্টি অবনত (নিচে) করে হাটে,বুক ও পিট পরিপুর্ন ভাবে ঢাকতে হবে, সাথে মাহরাম /নন মাহরাম ইত্যাদি মেইনটেইন করতে হবে) "। 


*আর মাহরাম হচ্ছে এমন ১৪ জন পুরুষ যাদের সামনে সাধারন সৌন্দর্য প্রকাশ করা জায়েয। (বাবা,আপন চাচা,আপন মামা,আপন ভাই, স্বামী,স্বামীর ছেলে,শশুর,নিজের ছেলে,বোনের ছেলে,ভাইয়ের ছেলে, আপন নান-দাদা,দুধ-ভাই। এই ১৪ জন মাহরাম বা মানুষ বাদে বাকি সব নন-মাহরাম। 


কুরআনের সুরা আহযাব ৩২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,

"তোমরা যদি আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো অতি সুন্দর কন্ঠে কথা বলো না (বোগানা পুরুষদের সাথে), স্বাভাবিক ভাবে কথা বলবে এবং জাহিলিয়াত যুগের মতো নিজরদের প্রর্দশন করবে না"।


নন- মাহরামদের ব্যাপারে কুরআনের এই আয়াত অনুসারে বুঝতে পারি,

" (ছেলেদের সাথে মিষ্টি কন্ঠে কথা বলা যাবে না, কথা যদি বলতেই হয় তবে পর্দার আড়ালে /অন্যরুম থেকে কথা বলবে, নন - মাহরামদের সামনে মুখ ঢাকতে হবে)"।

 নন - মাহরাম থেকে দুরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে, এমনকি অতি সুরেলা কন্ঠে কথা বলা হতে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখবেন এটি আপনার আল্লাহর দেওয়া ফরজ তিনি অবশ্যই দেখছেন। ঠিক এমন ভাবে চলা-ফেরা করতে হবে৷

 

পর্দা এমন ভাবে করতে হবে যেন সৌন্দর্য প্রকাশ না পায় সেটা যেভাবেই হোক না কেন। আবার পর্দা করে - মাঠে খেলা, অনুষ্ঠানে যাওয়া,নন - মাহরামদের সাথে ঘুরতে যাওয়া,চ্যাট করা, সম্মুখে আকর্ষনীয় ভাবে হেসে খেলে, রসিকতা করে কথা বলা, তাদের রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করা (ফিতনার আশংকায়), আবার সোসাল মিডিয়ায় নিজের দু চোখ বের করে উপরে হাদিস কুরআনের ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করা ইত্যাদি হারাম!হারাম!হারাম!!! এসব করা যাবে না মানে যাবে না।  


** কারন এমন অহোরহো ঘটনা ঘটছে সোসাল মিডিয়ায় দ্বীনি ভাই বোন দিয়ে শুরু হয় এবং অশ্লীলতা দিয়ে এর শেষ। পর্দা ছেলে-মেয়ে উভয়কে ফিতনা থেকে বাচানোর এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এটে যদি ফিতনা ছড়ানোই হয় তাহলে পর্দা করে লাভ টা কী?


*পর্দা যেভাবে করবেন : 

- এমন বোরকা পরবেন না ; যা আকর্ষিত রং, চকমকা- বা পুথি - পাথি (স্টোন) ইত্যাদি আকর্ষন করে সে সব বোরকা না পড়া।

- বোরকা বেশি টাইটফিট বা বেশি পাতলা যেন না হয় ,,, মুল কথা ঢিলেঢালা হতে হবে যেন আপনার শরীরের এক্সিট সাইট বোঝা না যায়। 

- এমন ভাবে খিমার বা জিলবাব ব্যবহার করবেন না যেন এতে ভ্রু - কপাল ইত্যাদি দেখা যায়। কারন, এটি সৌন্দর্য বোঝা যায়। ইনার ব্যবহার করবেন অবশ্যই। 

- হিজাব,নিকাব এমন ভাবে পরবেন যেন বুক-পিঠ সুন্দর মতো ঢেকে যায়।

- ওরনা বড়, ডাবল কাপরের ইঊস করবেন তবে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করবেন চলাফেরায়।। 

- উচু করে চুল বাধবেন না, এটি সম্পুর্ন হারাম। 

- ৬/৭/৫ ইন্চি উচু জুতা ব্যবহার করবেন না। এটা প্রতারনা বা ধোকা এটি আপনার আসল উচ্চতার থেকেও বেশি দেখায়। 

-পারফিউম,আতর ইত্যাদি ব্যবহার হারাম,হারাম হারাম!

- আঙ্গুল বের করা হাত মুজা গুলো ব্যবহার করবেন না। এটি হাতের রং, নখের সৌন্দর্য ইত্যাদি বোঝা যায়,মনে রাখবেন এটা পর্দা কোনঁ ফ্যাশন নয় । 

- শাড়ি পরে হাত মুজা পা মুজা পরে চাদর গায় দেওয়া,, এগুলা পর্দা না এগুলো পর্দান ১২ টা বাজিয়ে দেওয়া বলে। (শাড়ি পরবেন মাহরামদের সামনে ঘরের ভিতরে)

- ফিতনার আশংকায় হাত মুজা এটা পড়া উত্তম। তবে ওজর কারন ছাড়া খুলে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন সাহাবিদের মতে সে সময়ের নারীরাও হাত পা মুজা পরতো। আবার অনেক হাদিসে আসছে এক নারী সাহাবি যুদ্ধের সময় খবার দেওয়ার জন্য হাত খুলা রাখতেন যার ফরে বুঝা যায় হাত খুলে রাখা জায়েজ তবে কারন থাকলে। ফিতনার সময় ঢেকে রাখাই উত্তম। 

 

___এবার পর্দার অন্তর্ভুক্ত কাজ: পর্দা করার স্বাদ সেই বুঝবে যে নিজেকে মুল্যবান মনে করবে। কারন, আল্লাহর বান্দা/বান্দি কখনো অমুল্যবান হতে পারে না। এটি রবের হুকুম তিনি যেমন দয়াবান তেমনই কঠরশাস্তি দাতা। 

নন মাহরাম না মেইনটেইন করলে পর্দার অবস্থা ফুটা বালতির মতো হবে। এ যেন এতো এতো আমল সোওয়াব করে একটি বালতি ভরা কিন্তু সেই বালটি ফুটো করা থাকলে সব শেষ তেমনি নন মাহরাম মেইনটেইন না করা হলে এইরকম অবস্থা হবে। 

মনে রাখবেন, পর্দা করবেন কিন্তু গিবত, চুগোলখুরি (একে অন্যের কথা লাগালাগি), হিংসা, বড়দের সম্মান না করা,হারাম থেকে দুরে না থাকা, মানুষের হক্ব নষ্ট করা ইত্যাদি গুন্নাহ থেকে অবশ্য বাচতে হবে৷

পর্দা করা যেমন ফরজ। হারাম, গুন্নাহ থেকে বিরত থাকা বড় ফরজ। 

পর্দা নারী পুরুষ উভয় কে ফিতনা থেকে বাচায়। পুরুষ কে বাচায় চোখ নিচে নামানোর মাধ্যমে আর নারীকে বাচায় নিজের সৌন্দর্য গোপন রাখার মাধ্যমে। তাই ফিতনা ছড়াছড়ির থেকে দুরে থাকবেন।  

এবং অবশ্য নিজের বহ্যিক পর্দা করার আগে, অন্তরের সুন্দর আখলের চর্চা করবেন মনে রাখবেন, মিজান এ সবচেয়ে ভাড়ি আপনার সুন্দর চরিত্র (আখলাক)ভাড়ি হবে। 


ইসলামকে সহজ করা হয়েছে একে সহজ ভাবেই নিবেন। অযথা তর্কে জড়ানো থেকে বিরত থাকবেন। 


""" মহান রব আমাদের গুন্নাহ মাফ করে তার নেককার বান্দা হিসেবে কবুল করে নিক""" 

-আমিন সুম্মা আমিন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন