হায়দ্রাবাদ | পৃথিবীর মানচিত্র থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া একটি দেশ


হায়দ্রাবাদ | পৃথিবীর মানচিত্র থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া একটি দেশ
 
১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর,

 বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো, পৃথিবীর সব নিতি-নিয়ম, জাতিসংঘের সনদ দু’পায়ে মাড়িয়ে হিংস্র হায়েনার মতো চার দিক থেকে হায়দারাবাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ল ভারতীয় সেনাবাহিনী। শত শত ট্যাঙ্ক, কামানের গরজনে প্রকম্পিত হলো হায়দারাবাদের আকাশ-বাতাস-জমিন। ভারতের বোমারু বিমানগুলোর নির্বিচার বোমাবর্ষণে ক্ষত-বিক্ষত হলো ৫শ’ বছর ধরে গড়ে ওঠা সুন্দর দেশ হায়দারাবাদ।


উন্মত্তের মতো মুসলিম হত্যকান্ডে মেতে উঠল ভারতীয় সেনাবাহিনী। কারণ, তারাই ছিল হায়দারাবাদের স্বাধীনতা রক্ষার মূল চালিকাশক্তি। শহর, বন্দর, বাজার, গ্রাম, গঞ্জ ধ্বংস করে মাইলের পর মাইল বাড়িঘর, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ জালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে রাজধানীর দিকে এগুতে থাকল ভারতীয় বাহিনী। প্রথম দুই দিনেই ৭০ হাজারের মতো নিরীহ সাধারন মানুষ নিহত হলো ভারতীয় সৈন্যদের হাতে। ধর্ষিত হলো ৩০ হাজারের মতো মা-বোন।


 মানবসভ্যতার এত বড় বিপর্যয়ের মুখেও সেদিন মুখে কুলুপ এঁটে নিরব নিঃশব্দ হয়ে বসে রইল বিশ্ববিবেক। এমনকি মুসলিম দেশগুলো পর্যন্ত সেদিন সাহায্য তো দূরের কথা, এই ভয়াবহ আগ্রাসানের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করেনি। এই নিরবতা, এই নিঃসঙ্গতা, এই জঘন্য উদাসিনতার কারণ কী ছিল, জাতিসংঘ বা কেন সেদিন নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন ডাকতে বিলম্ব করল?-তা আজও রহস্যাবৃত হয়ে আছে। জাতিসংঘ বিশ্বের অন্যান্য দেশের কথা না হয় বাদই দিলাম। মুসলিম দেশগুলো কেন হায়দারাবাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি, তা আজও কারও বোধগম্য নয়।


 হায়দারাবাদের গণমানুষের প্রিয় নেতা কাশেম রিজভী বিপন্ন স্বাধীনতা রক্ষার জন্য গড়ে তুলেছিলেন প্রবল প্রতিরোধ। কিন্তু অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত লক্ষাধিক সৈন্যের একটা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় নিরস্ত্র জনতা যুদ্ধ করে টিকে থাকতে পারে ক’দিন?


 ভারতের তল্পিবহঙ্কারী, দালাল, সুবিধাভোগী, দেশদ্রহীচক্র যারা নানা ছদ্মাবরণে হায়দারাবাদের জাতীয় ঐক্য, সংহতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিজস্ব সংস্কৃতি ধংসের জন্য কাজ করছিল, তারা এবার প্রকাশ্যে এসে হাত মেলালো ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে। হায়দারাবাদের রাজনীতি, সমরনায়ক, বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়ীদের বিরাট অংশ জাতীয় প্রতিরোধ সংগ্রামকে ভেতর থেকে ভয়ানক দুর্বল করে তুললেন। গোটা জাতিকে নানা কায়দায় পরিষ্কার দুটো ভাগে বিভক্ত করে তুলল। নানা কল্পকাহিনীর জন্ম দিল তারা। ভারতীয় পত্রপত্রিকা এক্ষেত্রে জোগালো ঢালাও সমর্থন।


ফলে আঘাত ও আগ্রাসান যখন প্রত্যক্ষভাবে এলো তখন দিধাবিভক্ত জাতির পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ল, এরই মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আল ইদরুস করলেন চরম বিশ্বাসঘাতকতা। ঠিক আপনাদের মিরজাফর যেভাবে সিরাজের সঙ্গে, মীর সাদেক যেভাবে টিপু সুলতানের সঙ্গে করেছিলেন।


তো আমাদের সব উদ্যোগ আয়োজন ব্যার্থ হয়ে গেল।ফলে মাত্র ৬ দিনের যুদ্ধে ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতার ১ বছর ৩ মাসের মাথায় পতন হলো হাইদারাবাদের।

পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে গেলো হাইদারাবাদ.....


বই- হারিয়ে যাওয়া হাইদারাবাদ

 -আবদুল হাই শিকদার


Published by : Ilm Media - ইলম মিডিয়া 

Article collected from : Alamgir Hossain

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন