.
একরাতে জোবাইদা একটা ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলেন,ঐ স্বপ্ন একজন সতী স্বাদ্ধী নারীর জন্য বড় দুঃচিন্তার। তিনি স্বপ্নে দেখেন, অনেক পুরুষ লোক তাঁকে তৃপ্তি সহকারে ভোগ করে যাচ্ছে। জোবাইদা স্বপ্ন থেকে জেগে ই ভয়ে তটস্থ হয়ে উঠলেন,এ আমি কি দেখলাম? জীবনে কোন পুরুষ আমার শরীর স্পর্শ করা দুরের কথা আমার চেহারা সঠিক ভাবে দেখে নাই।
.
সে আমাকে কিভাবে অসংখ্য পুরুষ তৃপ্তি সহকারে ভোগ করছে? পরের দিন প্রত্যুষে তিনি তাঁর দাসীকে বুঝিয়ে ঘটনাটা বলে পাঠালেন তৎকালীন প্রখ্যাত শায়খের কাছে।জোবাইদা দাসীকে বলে দিলেন,সে যেনো শায়খকে বলে ঘটনা স্বয়ং দাসীর সাথে ঘটেছে।কারন জোবাইদার মতো প্রখ্যাত নারীর জন্য বিষয়টা অসন্মান ও লজ্জাজনক।
.
দাসী শায়খের দরবারে গিয়ে জোবাইদার শিখিয়ে দেওয়া কথা মতো নিজের খোয়াব হিসাবে বলে এর ব্যাখ্যা চায়। সব ঘটনা শুনে শায়খ বলল, তুমি কে? সে বলল আমি একজন দাসী,তবে কার দাসী এটা বললোনা। শায়খ বললো এই স্বপ্ন তুমি দেখতে পারোনা, তুমি এমন খোয়াব বা স্বপ্ন দেখার লায়েক নও। সত্যি করে বলো কে এই খোয়াব দেখেছেন?
.
দাসী জোবাইদার কাছে এসে বলল,মাননীয়া শায়খ আমাকে বললেন আমি এই খোয়াবের লায়েক নই। যিনি এই খোয়াব দেখেছেন,তিনি অনেক উঁচুমানের ব্যক্তিত্ব। শায়খের এমন মন্তব্যে জোবাইদার মনে সাহসের সঞ্চার হলো। তিনি এবার দাসীকে সাথে নিয়ে স্বয়ং গেলেন শায়খের কাছে।
.
শায়খ জোবাইদাকে দেখে ই বললেন মারহাবা মারহাবা এমন খোয়াব মহীয়সী জোবাইদা ব্যথিত আর কারো দেখার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন নারী এই মুহুর্তে মুসলিম দুনিয়াতে নাই। জোবাইদা শায়খের উচ্ছাস দেখে বললেন মাননীয় শায়খ আমি এই খোয়াব নিয়ে বড় ই দুঃচিন্তায় আছি। দয়া করে খোয়াবের ব্যাখ্যা দিয়ে আমাকে চিন্তামুক্ত করুন।
.
শায়খ জোবাইদাকে বলল,মাননীয়া আপনার উদ্দেগ্যে এমন কাজ হবে,যে কাজের দরুন মুসলিম উম্মাহ বিশাল উপকৃত হবে। আপনার খোয়াবের তারতীব এটাই আপাতত। জোবাইদা ভাবতে লাগলেন কি এমন মহৎ কাজ সংগঠিত হবে আমাকে দিয়ে? ঐ বছরই জোবাইদা হজ্জব্রত পালনের জন্য মক্কায় আসেন।
.
হজ্জে এসে জোবাইদা দেখলেন হাজীরা পানীয় জলের জন্য বহু নিদারুন কষ্টে ভুগতেছেন। জোবাইদা হজ্জের আহকাম শেষ করে বাগদাদে ফিরে যান,ভাবলেন হাজীদের কষ্ট কিভাবে লাঘব করা যায়?
.
তিনি তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিলেন ফোরাত নদীর প্রবাহ থেকে মক্কাহ পর্যন্ত একটা খাল খনন করবেন, যাতে হাজীদের পানীয় জলের কষ্ট লাঘব হয়। জোবাইদা এই খাল খননে সর্বাত্মক সহযোগীতা করে সমাপ্ত করেন। এই খালের নাম,,নহরে জোবাইদা,,এটা ই ছিলো এই মহীয়সী রমনীর খোয়াবের তারতীব।
.
নহর খননে মোট ব্যয় হয় ১৭ লাখ দিনার। তায়েফ আল হুদার পাশ দিয়ে এটি বয়ে চলেছিল। আরাফাত, মুজদালিফা ও মিনার পাশ দিয়ে প্রবাহিত নহরটি আজ প্রাণহীন। পড়ে আছে তার চিহ্ন। এতকাল পরেও বিশ্বের মুসলমানরা শ্রদ্ধাভরে সেই স্মৃতি স্মরণ করে আসছে।
.
Collected from : শহীদুল ইসলাম
