দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্তানে পুনরায় ইসলামী শাসনতন্ত্র | Ilm Media Daily Update

 

চতুর্দিক থেকে আফগানিস্তানের রাজধানী শহর কাবুল ঘিরে ফেলেছে তালেবান যোদ্ধারা। এমন পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। খবর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজারের।

আফগান সরকার ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরও করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আলী আহমদ জালালীকে। ৮১ বছর বয়সী আলী আহমদ জালালী আফগানিস্তানের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল সাত্তার মিরজাকওয়াল জানিয়েছেন, কাবুলে হামলা হবে না শর্তে তালেবানের সাথে সমঝোতা হয়েছে। আফগান বাহিনী এবং স্পেশাল ফোর্সকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



২০ বছর পর আফগানিস্তানে ফিরেছেন তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও উপনেতা মোল্লা আব্দুল ঘনি বারাদার। খবর যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের।

মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) কাতারের রাজধানী দোহা থেকে তিনি আফগানিস্তানে কান্দাহার অঞ্চলে পৌঁছান বলে জানিয়েছে সিএনএন। এর আগে দোহায় আমেরিকা এবং আফগান সরকারের সঙ্গে শেষ পর্যায়ের শান্তি বৈঠকে তালিবান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন বারাদার।

তালেবান দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও আফগানিস্তানের ক্ষমতার দখল নেয়ার পর বিশ্বব্যাপী আলোচনায় তালেবানের শীর্ষ নেতা মোল্লা আব্দুল ঘনি বারাদার। তিনিই দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন। তালেবান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার সখ্যের বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

২০১০ সালে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র যৌথ অভিযানে পাকিস্তানের করাচি শহরে ধরা পড়েন বারাদার। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই নাকি তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। মূলত, আফগানিস্তান ছাড়ার নীতি নেয়ায় সমঝোতার অংশ হিসেবে বারাদারকে মুক্তি দেয় তারা।


২০ বছর আগে যে ধারণার ভিত্তিতে তালেবান সরকার পরিচালনা করেছিল এবার সেরকম হবে না। সম্পূর্ণ পরিবর্তিত চিন্তা নিয়ে তালেবান এবার আফগান সরকার পরিচালনা করবে। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমন কথা বলেছে তালেবান।

মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) রাজধানী কাবুলে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ২০ বছর আগে যে ধারণার ভিত্তিতে আমরা সরকার পরিচালনা করেছিলাম এবার তেমনটা হবে না। সম্পূর্ণ পরিবর্তিত চিন্তা নিয়ে তালেবান এবার আফগান সরকার পরিচালনা করবে। হত্যাযজ্ঞ, লুটতরাজ কিংবা অন্য কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবো না আমরা। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা তালেবানের বিরোধিতা করেছে তাদের ক্ষমা করা হয়েছে। বিভিন্ন গোত্র এবং আদর্শের অনুসারীদের সাথে নিয়ে সরকার পরিচালনা করতে চায় তালেবান। তারা কারও প্রতি আগ্রাসী আচরণ করবে না। তবে শরীয়াহ আইনের ভিত্তিতেই সরকার পরিচালনা করবে তালেবান। নারীরাও সরকার পরিচালনার অংশ হতে পারবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন