আসসালামুয়ালাইকুম!
বর্তমান সময়ে যেকোন দেশে আপনি যদি কোনো কিছু কিনতে চান আপনার শুধুমাত্র যা প্রয়োজন তা হলো কতগুলো কাগজের নোট। আপনি চাইলে মুহূর্তের মধ্যে কয়েক গ্যালন তেল কিনতে পারেন যদি আপনার কাছে কিছু কাগজের নোট থাকে। আপনি কি জানেন বিশ্বের সকল কারেন্সি ডলারের উপরে হিসাব করা হয়! আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জাগে নি কিভাবে ডলার আন্তর্জাতিক কারেন্সিতে রুপ নিল? আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জাগে নি কিভাবে বর্তমান সময়ে আমেরিকা সকল মুসলিম দেশের উপর ছুরি ঘোরাচ্ছে?
পেপার কারেন্সির এই সিরিজে ইনশাআল্লাহ আপনাকে জানানোর চেষ্টা করব কিভাবে আমেরিকা আজ এত শক্তিশালী, এর পিছনে কোন বেইমানদের হাত আছে এবং কেন বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর এত করুন অবস্থা। ইনশাআল্লাহ শেষ পর্ব পর্যন্ত আমার সাথে থাকবেন।
আপনি চাইলে নিচের লিংকে গিয়ে পেপার কারেন্সির ইবুক ডাউনলোড করে অফলাইনে পড়তে পারেন।
https://www.ilmmedia.org/2021/08/download-ebook-with-fastest-speed.html
আসুন প্রথমে জেনে নেই, কারেন্সি মূলত কি?
কারেন্সি হলো একটি মাধ্যম যেটি বহন যোগ্য, যার একটি মার্কেট ভ্যালু আছে এবং যেটি আদান-প্রদানে সক্ষম।
আমাদের ধর্মে কারেন্সি হিসেবে শুধু সোনা ও রুপাকে বৈধ করা হয়েছে। কারন এগুলো খুব অল্প জায়গায় অনেক বেশি মূল্য ধরে রাখে এবং যা কেউ চাইলেই তৈরি করতে পারে না। ফলে আপনি পৃথিবীর যেকোন দেশে দেখবেন সোনা-রুপার দাম প্রায় একই। তাই যখন সোনা-রুপাকে কারেন্সি হিসেবে ব্যবহার করা হত সকল দেশেই এর মূল্য সমান ছিল। অর্থাৎ, আপনি এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ১টি সোনার মুদ্রা দিয়ে যা কিনতে পারতেন চীনেও ওই ১টি সোনার মুদ্রা দিয়ে একই জিনিস কিনতে পারতেন।
কিন্তু বর্তমানে আপনি বাংলাদেশের ১টি মুদ্রা দিয়ে যা পাবেন চীনে ওই এক টাকা দিয়ে একই জিনিস পাবেন না। কারন তাদের ১টি মুদ্রার দাম আমাদের মুদ্রার তুলনায় বেশি এবং যত সময় যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দাম তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু কেন? এই পার্থক্য কি শুধু বানিজ্যিক কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে নাকি এর পিছনে অন্য কোন কারন আছে?
ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই আপনি এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
তো আগে সোনাকে কারেন্সি হিসেবে ব্যবহার করা হত। এর পর প্রথম কাগজের নোট ব্যাবহার শুরু করে চীন ৭০০ সালে। কিন্তু তখন এটি এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। এই নোট গুলো ব্যাবহারের নিয়ম ছিল অনেকটা বর্তমান সময়ের ব্যাংকের চেকের মতো। অর্থাৎ, রাজ্যের কাছে সোনা জমা থাকতো এবং এর বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট মূল্য ধরে কাগজের নোট ব্যাবহার করা হত। কিন্তু মোট সোনার মূল্য ও মোট কাগজের নোটের মূল্য সমান ছিল। তাহলে কিভাবে সোনার বদলে ডলার দ্বারা কাগজের নোটের মূল্য হিসাব শুরু হল?
এই রহস্যের উন্মোচন করতে হলে আমাদের প্রথমে ফিরে যেতে হবে ২য় বিশ্ব যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে…
১৯৩৯-১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চলমান ২য় বিশ্ব যুদ্ধে জাপানের সঙ্গে জোটবদ্ধ জার্মানি ও ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ছিল ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেন ও আরও মিত্র দেশ। এর বিনিময়ে যুদ্ধের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেন ও অন্যান্য দেশের কাছে একটি মোটা অংকের অর্থ ঋণে পরে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করে তারা সোনা না দিয়ে সেগুলো রিজার্ভ এ রাখবে এবং এর সমপরিমাণ কাগজের নোট দেবে। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফ্রান্স বুঝতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কাগজের নোটের সমপরিমাণ সোনা নেই। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বলে আমরা তোমাদের কাগজের নোট চাই না। এর পরিবর্তে আমাদের পাওনা পরিমাণ সোনা দাও। খুব শীঘ্রই অন্যান্য দেশগুলোও এটি বুঝতে পারে। ফলে তারাও একই রকমের দাবি তোলে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তা করে যদি তারা এভাবে সব সোনা দিয়ে দিতে থাকে তবে তাদের কাছে শুধু পরে থাকবে ব্যাংক ভর্তি কারি-কারি কাগজের নোট যার কোন প্রকৃত বাজার মূল্য নেই। তাই তারা একটি নতুন চাল চালে যা রাতারাতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেয়।…
ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পর্বে এ সম্পর্কে বলা হবে।
[বি.দ্র: লেখাগুলো যত পারেন মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন। কিভাবে আমাদের পশ্চিমারা কোনঠাসা করে রেখেছে সকলকে জানতে হবে।মুসলমানদের এখন সোচ্চার হওয়ার সময়।
ফিআমানিল্লাহ!
