কুরআনের নিদর্শন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে যে, ইসলামে জ্ঞানের ধারণা (আল-ইলম) হল সঠিক থেকে ভুলকে আলাদা করার (আল ফুরকান) পথপ্রদর্শক (হুদা) । যেভাবে সূর্য আমাদের চারপাশের পৃথিবী দেখার জন্য আমাদের চোখে আলো নিয়ে আসে, ঠিক একইভাবে আল-ইলম আমাদের চারপাশে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিদর্শন দেখার জন্য নির্দেশনার উৎস।
আল্লাহ তা আলা বলেছেন,
سَنُرِيهِمْ ءَايَٰتِنَا فِى ٱلْءَافَاقِ وَفِىٓ أَنفُسِهِمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ ٱلْحَقُّۗ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ شَهِيدٌ
বিশ্বজগতে ও তাদের নিজদের মধ্যে আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব যাতে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয় যে, এটি (কুরআন) সত্য।
(Fussilat 41:53)
এই কুরআনের আয়াতের উপর ভিত্তি করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলমানদেরকে তাঁর কিছু নিদর্শন খুঁজে পেতে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ ও অধ্যয়ন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সেই কারণে, কোরআনের বহু আয়াত মুসলমানদেরকে প্রকৃতি অধ্যয়ন এবং জ্ঞান অন্বেষণের জন্য আমন্ত্রণ জানায় এবং একে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের জন্য উৎসাহিত করার জন্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এটি অমুসলিমদের জন্য একটি নিদর্শন যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারবে যে ইসলামই একমাত্র প্রকৃত ধর্ম। তবে যারা এই নিদর্শনগুলো দেখার পরও জেনে-শুনে ইসলামে ফিরে আসবে না এটি হবে তাদের জন্য দুর্ভাগ্য এবং তারা শেষ বিচারের দিন আল্লাহর কাছে বলতে পারবে না যে, আমরাতো ইসলাম সম্পর্কে কিছু জানতামই না।
ইলম মিডিয়ার এই সিরিজে আমরা কুরআনে আল্লাহর বর্ণিত এমন কিছু আয়াত তুলে ধরব যার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হবে যে, কুরআন ১৪০০ বছর আগের কোন মানুষের মনগড়া বক্তব্য না। বরং এটি সরাসরি আল্লাহ হতে প্রেরিত।
প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব তার নিজের ও অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যেন সে বুঝতে পারে কেন ইসলামই প্রকৃত ধর্ম। যদি আপনি কেবল এই কারনে ইসলাম ধর্ম পালন করেন যে আপনি একটি ইসলামী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তবে, আপনার ও অমুসলিমদের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। কারন তারাও কেবল অন্য ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় তা মেনে চলে। আপনাকে বুঝতে হবে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের মধ্যে পার্থক্য। তাহলে আপনি দেখবেন আপনার ইমান কয়েকগুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আপনার কাছে উত্তর থাকবে কেন আপনি একজন মুসলিম।
আজকে আমরা আলোচনা করব, মানুষের সৃষ্টির ব্যাপারে কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান কি বলে।
আধুনিক বিজ্ঞান অনুসারে-
জীববিজ্ঞান এবং রসায়নের বিকাশের পরে, কাদামাটি এবং মানব দেহের বিশ্লেষণাত্মক গবেষণা করা হয়েছিল। ফলাফল দেখিয়েছে যে মাটির উপাদান এবং মানব দেহের উপাদানগুলি হুবহু মিলে যায়। আসুন আমরা এই উপাদানগুলি হলো: লোহা, ক্যালসিয়াম, অক্সিজেন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন, আয়োডিন, ম্যাঙ্গানিজ, সীসা, কার্বন, দস্তা, সালফার এবং নাইট্রোজেন। আল্লাহর শৈল্পিকতা ছিল এই জড় বস্তুকে একত্রিত করে মানুষ সৃষ্টি করা।
সকল জীবের জন্য পানি প্রধান গুরুত্ব; কিছু জীবের মধ্যে, তাদের শরীরের ওজনের ৯০% পানি থেকে আসে। মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক শরীরের ৬০% পর্যন্ত পানি।
জার্নাল অফ বায়োলজিক্যাল কেমিস্ট্রি-১৫৮ এইচ এইচ মিচেলের মতে, মস্তিষ্ক এবং হৃদপিণ্ড ৭৩% পানির সমন্বয়ে গঠিত এবং ফুসফুস প্রায় ৮৩% পানি। ত্বকে ৬৪%জল, পেশী এবং কিডনি ৭৯%, এমনকি হাড়গুলিও জলযুক্ত: ৩১%।
কুরআনে বর্ণিত হয়েছে-
وَلَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ مِن سُلَٰلَةٍ مِّن طِينٍ
আর অবশ্যই আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি। (Al-Mu'minun 23:12)
ٱلَّذِىٓ أَحْسَنَ كُلَّ شَىْءٍ خَلَقَهُۥۖ وَبَدَأَ خَلْقَ ٱلْإِنسَٰنِ مِن طِينٍ
যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন এবং কাদা মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন।
(As-Sajdah 32:7)
এখানে আরও বর্ণিত হয়েছে,
وَجَعَلْنَا مِنَ ٱلْمَآءِ كُلَّ شَىْءٍ حَىٍّۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আসমানসমূহ ও যমীন ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল*, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম, আর আমি সকল প্রাণবান জিনিসকে পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না? (Al-Anbiya 21:30)
অর্থাৎ কুরআন অনুসারে, মানুষ ধুলো এবং জল থেকে সৃষ্টি হয়েছে। কখনও কখনও কুরআন এই উপাদানগুলিকে আলাদাভাবে এবং কখনও কখনও সংমিশ্রণে জোর দেয়।
এমন একটা গবেষণা যা ১৯০০ সালের আগে এই পৃথিবীর কোন মানুষ জানতো না। এটি এমন একটি গবেষণার ফলাফল যা এর আগে কেউ বের করে বের করতে পারে নি।
এখন আপনি আমাকে বলুন ১৪০০ বছর আগে ৫০০ সালের দিকে, যখন মানুষ অনুবীক্ষন যন্ত্রের ব্যাপারে কল্পনাই করতে পারতো না তখন কিভাবে একজন মেষ পালকের পক্ষে এটি বর্ণনা করা সম্ভব যে আরবি অক্ষরই পরতে জানতো না? এটা কিভাবে সম্ভব!
যারা এখন এই পোস্টটি পড়েছেন তারা আমাদের অমুসলিম ভাইদের কাছে উপরের এই প্রশ্নটি শেয়ার এর মাধ্যমে পৌছে দিন।
ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পর্বে মহাকাশ বিষয়ে আলোচনা করব।
Writer : Rubam Rit
Publisher: Ilm Media
[বি.দ্র: লেখাগুলো যত পারেন মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন যেন প্রত্যেকটি মানুষ বুঝতে পারে কেন আমরা মুসলিম, কেন আমাদের ধর্মই প্রকৃত ধর্ম!]
আল-বিদাহ্

