১৮৮৩ সালে সিরিয়ার দামেস্কো তে মৃত্যুশয্যায় পরে আছেন আমীর আব্দুল কাদের যাজাইরি কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমস আগে থেকেই তার মৃত্যু শোকসংবাদের কলামে লিখে রাখছে , '' ১৯শো শতকের শ্রেষ্ঠ মানব'' শিরোনামে ..
কে এই মুসলিম বীর আমীর আব্দুল কাদের যাজাইরি আর কেনোই তিনি এত বিখ্যাত আর মহান হলেন? এতই মহান যে, তার নিজের দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে, আমেরিকার একটি শহরের নাম দেয়া হয়েছে তার নামে "এল কাদের" আর ব্রিটেন , ফ্রান্স, ভাটিক্যান তাকে সর্বোচ্চ পদক দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন এবং আব্রাহাম লিংকন ও তার জন্য গিফট পাঠিয়েছিলেন।
ইমাম শামিলের পর , সমসাময়িক মুসলমানদের জন্য আমির আব্দুল কাদের জাজাইরি ছিলেন সর্বশেষ মুসলিম মহাযোদ্ধা, যিনি ১৯শ শতকের মধ্বর্তী সময়ে আলজেরিয়াতে , দখলদার ঔপনিবেশিক ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
আব্দুল কাদের যাজাইরি ১৮০৮ সালে আলজেরিয়ার মাশকারা শহরের বিখ্যাত ইসলামিক চিন্তাবিদ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
তার দাদা মোস্তফা , হজে গিয়ে আব্দুল কাদের জিলানীর কাদেরী তরীখার সাথে পরিচত হন, পরবর্তীতে বাগদাদ থেকে এই তরিকায় ভালোমতো শিক্ষা লাভ করেন এবং আলজেরিয়াতে তিনি এই তরিকা নিয়ে আসেন এবং এই সুফী মহা সাধকের নাম অনুসারেই মোস্তফা, তার নাতি, আমির আব্দুল কাদের জাজাইরির নাম রাখেন।
তার বাবা মহিউদ্দিন বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার , সদুর মিশর পর্যন্ত তার জ্ঞানের সুনাম ছড়িয়ে গিয়েছিল।
আমির আব্দুল কাদের জাজাইরি শিক্ষা নিয়েছিলেন তার মার্ কাছ থেকে। খুব অল্প বয়সেই তিনি কোরআনের হাফিজ হন।
ছোটবেলা থেকেই দেশ বিদেশ ঘুরে বেরিয়েছিলেন। শিশুকাল থেকেই মরুভূমিতে টিকে থাকার শিক্ষা যেমন : শিকার করায় পারদর্শী হন, শত্রু পক্ষের বাজপাখি চিহ্নিত করা, দূর থেকে তাঁবুর ধরণ দেখেই বুঝতে পাড়া , শত্রূ না মিত্র পক্ষ , আর মরুভুমি আর পাহাড়ি ভূমিতে দ্রুত গতিতে ঘোড়া চালানোর কৌশল রপ্ত করেছিলেন।
তিনি গ্রিক দর্শন , ইবনে খাল্দূনের দর্শন বিদ্যা এবং আরব ক্লাসিক সাহিত্য ও ভালোমতো পড়েছিলেন। তিনি বনজ লতাপাতা থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ঔষধ বানানোর দীক্ষাও নিয়েছিলেন। তিনি অংক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানতেও পারদর্শী ছিলেন। আমির আব্দুল কাদির জাজাইরি নিজেও ভালো কবিতা লিখতে পারতেন। তিনি ইব্ন আরাবীর দর্শন, কবিতার সবচেয়ে বড়ো ভক্ত ছিল। এমনকি তিনি মৃত্যুর পর দামেস্কোতে ইব্ন আরাবীর কবরের পাশেই সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।
১৮২৫ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি তার বাবার সাথে হজ করতে মক্কায় যান। মক্কায় গিয়ে তাদের সাথে দেখা হয় ইমাম শামিলের, যিনি কিনা ঔপনাবাশিক রাশিয়ান সম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দাগেস্তান আর চেচনিয়ায় ৩০ বছর সংগ্রাম চালিয়ে যান।
মহাবীর ইমাম শামিলের সাথে দেখা হয়ে ১৭ বছরের আমির আব্দুল কাদেরের মনে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আর অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস তৈরী হয়।
যাকিনা পরবর্তী জীবনে কাজে দেয়।
তারা দামেস্ক,বাগদাদ , মিশর ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন ইসলামিক দর্শনের সাথে পরিচত হন। মিসরে মোহাম্মদ আলীর সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী আধুনিকরণ আর দেশের উন্নয়নের ধারা দেখে তিনি খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। মোহাম্মদ আলী ই ব্রিটেন আর ফ্রান্সের আরব ভূমি দখলের বাসনার সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
১৮৩০ সালে তিনি আলজেজরিয়ায় ফিরে আসেন। ফিরে আসার কয়েক মাস পরই
ফ্রান্স আলজেরিয়া আক্রমণ করে দখল করে নেয়। ১৮৩১ সালে আমির আব্দুল কাদেরের বাবা মহিউদ্দিন কে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য নেতা বানানো হয়। মহিউদ্দিন ফ্রান্সের দখল থেকে রক্ষা পেতে জিহাদের ডাক দেন , তার ছেলে আমির আব্দুল কাদের কে প্রথম প্রতিরোধী আক্রমণ করতে পাঠান।
তার পরিবার কোনো যোদ্ধা গোত্রের ছিল না। তাদের গোত্র দার্শনিক , জ্ঞেনচর্চা করতো , ততকালীন আলজেরিয়াতে শান্তি চুক্তি করার জন্য বিখ্যাত ছিল।
কিন্তু পরিস্থিতি আমির আব্দুল কাদের জাজাইরিকে , আস্তে আস্তে শান্তিপ্রিয় সুফী নেতা থেকে ন্যায়পরায়ণ মহাযোদ্ধা করে তোলে।
বয়সে বুড়ো হওয়ায়, মহিউদ্দিন ১৮৩২ সালে আমির আব্দুল কাদের কে এই সংগ্রামের নেতা বানান।
আমির আব্দুল কাদের ১৮৩২ সালের শরৎকালে বিভিন্ন গোত্রের মিলিত বাহিনীর আক্রমণ করে , ফ্রান্স কে পরাজিত করে ওড়ান প্রদেশ থেকে। ধূর্ত ফ্রান্স তখন , আমির আব্দুল কাদের এর সাথে শান্তি চুক্তি করতে চেষ্টা করেন ।
যুদ্ধে অপরিহায্য প্রাণ হানি কমাতে আমির আব্দুল কাদের শান্তি চুক্তিতে সাক্ষর করেন। যার ফলে ওড়ান প্রদেশ আমির আব্দুল কাদেরের ক্ষমতায় চলে যায় , কিন্তু ফ্রান্স নতুন জেনারেল নিয়োগ করে , শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করে যুদ্ধে লিপ্ত হয় , এইবার আমির আব্দুল কাদেরের বাহিনীর কাছে মাকতা যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয় হয় ফ্রান্সের।
ফ্রান্সের জেনারেল টমাস রবার্ট বাগুইল্ড বাহিনী আবার ও আলজেরিয়া আক্রমণ করলে , ফ্রান্সের জনসাধারণের কাছে আমির আব্দুল কাদেরকে শান্তি প্রিয় মানবেতর শত্রু হিসেবে পরিচয় পায়। উর্লেখ যে আমির আব্দুল কাদের জাজাইরিকে পূর্বে ভয়ানক বর্বর শাসক হিসেবে ফ্রান্সে ঢালাওভাবে প্রচার করা হয়েছে , যুদ্ধের সমর্থন জোগাতে। ফ্রান্স আবার ও শান্তি চুক্তি করে এবং কয়েক বছরের মধ্যে আবার ও চুক্তি ভঙ্গ করে।
আবার জেনারেল বেগুইল্ড যেকোনো উপায়ে আলজেরিয়া দখলের চেষ্টা করে , তখন জেনারেল বাগুইল্ড বিখ্যাত উক্তি দিয়েছিলেন '' আমরা পাহাড়ের মদ্ধ দিয়ে প্রবেশ করবো , যত গাছ কেটে ফেলবো , যত ফসলের মাথা আছে পুড়িয়ে ফেলবো। ‘’
কিন্তু আমির আবদুল কাদের জাজাইরি যোদ্ধ বন্ধীদের সাথে নমনীয় ও মানবিক আচরণ করতেন। আব্দুল কাদের মহিলা বন্দিদের তার নিজ মায়ের অধীনে বন্দি রাখেন। তিনি যুদ্ধে বন্দিদের জন্য ইসলামের শিক্ষার ভিত্তিতে মানবীয় কোড বানান এবং তা মেনে চলেন। পরবর্তীতে এই কোড জেনেভা কনভেনশনের কোডের অনুপ্রেরণা যোগায়। কোনো যুদ্ধবন্দীর উপর কোনো অত্যাচার , জুলুমের খবর আসলে , তিনি ওই কাজে যুক্ত তার নিজের সেনাকে কঠোর শাস্তি দিতেন। একাধিক বার আমির আব্দুল কাদের জাজাইরি , যুদ্ধে বন্দিদের খাদ্য, রেশনের স্বল্পতার জন্য যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি দিয়েছিলেন। ফ্রেঞ্চ যুদ্ধবন্দীরাই পরবর্তীতে আমির আব্দুল কাদের জাজিরির বড় সমর্থক হয়ে উঠে, অনেকে ইসলাম ও গ্রহণ করে।
আমির আব্দুল কাদের, ইমাম শামিলের মতো গরিলা যোদ্ধ চালিয়ে যান ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত । দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্রান্সের সাথে সামরিক যুদ্ধ চালিয়ে যান। ইতিমধ্যে ফ্রান্সের ৫ জন প্রিন্স আর ৩ জন জেনারেল পরিবর্তন হয়।
১৮৪৭ সালে পূর্বের গোত্রগুলোর সহযোগিতা না পাওয়া, এবং মরক্কো আমির আব্দুল কাদিরের বিপক্ষে চলে গেলে , যুদ্ধবিরতি দিতে বাধ্য হন , এবং নতুন চুক্তি করেন , চুক্তির শর্ত মতে , আব্দুল কাদের যুদ্ধ বিরতি দিবে এবং তাকে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া অথবা একর শহরে শান্তিপূর্ণ ভাবে চলে যেতে দিবে। আমির আব্দুল কাদের তার যুদ্ধের ঘোড়া ফ্রান্স কে দিয়ে , আনুষ্ঠানিক ভাবে যুদ্ধবিরতি দেন।
কিন্তু বেঈমান ফ্রান্স সরকার তাদের চুক্তি সাথে সাথেই ভঙ্গ করে , এবং আমির আব্দুল কাদের কে বন্দি করে ফ্রান্সে নিয়ে যান।
বন্দি অবস্থায় আমির আব্দুল কাদেরের স্ত্রী , দুই ভাই, ছেলে সহ ২৫ জন সহচরকে মেরে ফেলা হয় ।
আমির আব্দুল কাদের যে কারাগারেই রাখা হতো , সেখানে অধিকাংশ কারাভোগী মুসলমান হয়ে যেত।
শুধু তাই না , আমির আব্দুল কাদের এমবয়স শহরে কারাভোগ করে সময় , শহরবাসীকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন প্রাথীর নাম লিখতে বললে, সর্বাধিক লোক আমির আব্দুল কাদিরের নাম লিখে দেন।
ইংরেজ কবি উইলিয়াম ঠেকারী আমির আব্দুল কাদেরকে নিয়ে কবিতা লেখেন “বাজপাখি শিরোনামে’’। অন্যদিকে আইরিশ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগী এক ঘোড়ার নাম দেন 'লিটল এব' আব্দুল কাদেরের নামে। সেই ঘোড়া পর পর দুইবার ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ান হয়।
বিখ্যাত লেখক ভিক্টর হাগু সহ অনেক বিখ্যাত সাংবাদিক , লেখক আমির আব্দুল কাদেরের সাথে চুক্তি ভঙ্গ আর বেইমানির বেপারে ফ্রান্সের উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদের মধ্যে কথা বলে ক্যাম্পাইন করে , মুক্তির জন্য।
অবশেষে ১৮৫২ সালে তৎকালীন ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট লুইস নেপোলিয়ান বোনাপার্ড , আমির আব্দুল কাদেরকে মুক্তি দেন। তারপর আমির আব্দুল কাদের কে প্যারিসে হাজার হাজার মানুষ আব্দুল কাদের কে দেখতে যান, আব্দুল কাদেরের নামে শ্লোগান ও রেলি করেন। শত্রু পক্ষের নেতার জন্য এমন শ্রদ্ধার কথা ইতিহাসের কোথাও পাওয়া যায় না।
কিছুদিন ইস্তানবুলের কাছে বাসরা শহরে থেকে , আমির আব্দুল কাদের , দামেস্কতে চলে যান , দামেস্কতে তখন এক ব্রিটিশ আর্মি অফিসার হেনরি চার্চিল , যেকিনা উইনস্টন চার্চিলের ভাই ছিল, তিনি আমির আব্দুল কাদেরের জীবনীতে লিখেন "সালাদিনের পরবর্তী আর কেউ দামেস্কতে জনগণের এমন উৎফুল্ল আগমন স্বাগতম পায়নি। ‘’
দামেস্কতে ধর্মতত্ত্ব , দর্শন আর আরব ঘোড়া নিয়ে বই লেখেন। মাজার বেপার হচ্ছে , তিনি দামেস্কতে তার ধর্মীয় আদর্শের গুরু ইব্ন আরাবী যে বাড়িতে থাকতেন , সেখানেই বাস করতে থাকেন।
ক্রিমিয়ান যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে , ক্রিস্তিনানরা ট্যাক্স না দেয়ার সিদ্দান্ত নেয় , দ্রুজ জনগুষ্টি মিলে চলমান সংঘাতের মধ্যে, খ্রীষ্টান নিধন অভিযান শুরু করে। ১৮৬০ সালের ৬ই জুলাই থেকে ১৩ জুলাই এই সংঘাত চলে , খ্রীষ্টান দেড় কোয়ার্টারে আক্রমণ করে বসে, সকল খৃষ্টানের মৃত্যু তখন অনিবার্য, এমন সময় আমির আব্দুল কাদির জাজাইরি তার দুই ছেলে নিয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। যতসম্ভব খ্রীষ্টান কে তার নিজ বাড়িতে থাকতে দেন। ক্ষুব্ধ আক্রমণকারীরা আমির আব্দুল কাদেরের বাড়ি ঘিরে ফেলে, আর খ্রীষ্টান দেড় কে দিতে চিৎকার করছিলেন। আলজেরিয়ান অনেক সৈন্য আবার আব্দুল কাদেরের নিরাপত্তার জন্য এসেছিলো।
আমির আব্দুল কাদের তখন তার বিখ্যাত উক্তি দিয়েছিলেন , " আমি আর আমার একজন সৈন্যের প্রাণ থাকতে নিরীহ খৃষ্টানদের কেউ স্পর্শও করতে পারবে না। ''
উর্লেখ যে ওই খ্রিষ্টানদের মধ্যে ফ্রেঞ্চ অনেক উচ্চপদয়স্ত অফিসার ও ছিল। যারা কয়েক বসার আগেই আলজেরিয়া আক্রমনে জড়িত ছিলেন।
দ্রুজ বিদ্রোহে সর্বমোট ৩০০০ খ্রীষ্টান খুন হয়, আব্দুল কাদের জাজাইরির প্রচেষ্টায় প্রায় ১০,০০০ খৃষ্টানের প্রাণ বাঁচে।
এই ঘটনার পরে অটোমান সুলতান আব্দুল মাজেদ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন , ব্রিটিশ রানী ভিক্টোরিয়া ,রাশিয়ান জার্ দ্বিতীয় আলেক্সান্ডার , তৃতীয় নেপোলিয়ান , ভাটিক্যান পোপ পায়াস এবং আব্দুল কাদেরের মিলিটারি গুরু এমাম শামিল নিজেও , আমির আব্দুল কাদের জাজাইরিকে ধন্যবাদ দিয়ে চিঠি লিখেন।
ফ্রান্স সরকার আমির আব্দুল কাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান " লিজিওন অফ অনার " দেন। কয়েক বছর আগেও এই আমির আব্দুল কাদের জাজাইরিই ছিল সরসী সম্রাজ্যের সবচেয়ে বড়ো শত্রূ।
ফ্রাসের দশ ভাগের একভাগ বেদুইন সৈন্য নিয়ে আমির আব্দুল কাদের জাজাইরি ফ্রান্সের সাথে ১৫ বছর যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। যুদ্ধের সময় আলজেরিয়াতে বহুবার ফ্রান্স চুক্তি ভঙ্গ করলেও, সিভিলিয়ান মহিলা শিশু , বৃদ্ধদের হত্যা করলেও , আমির আব্দুল কাদের জাজাইরি কখনো তার ইসলামিক আদর্শ থেকে এক পাও সরে আসেননি। যুগের পর যুগ এই মুসলিম মহাযোদ্ধাকে মানুষ মনে রাখবে তার মহানুভবতার জন্য।
